Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

জেন-জি থেকে প্রবীণদের শেখার আছে অনেক কিছু

বর্তমান সময়ে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম ভারতসহ বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে তাদের কথা শুনতে বাধ্য করেছে। তাদের আন্দোলনের শুরু হয়েছিল এমন একটি দাবি দিয়ে, যার জন্য পরিণত গণতন্ত্রে জাতীয় আন্দোলনের প্রয়োজন হওয়ার কথা ছিল না। তরুণরা প্রতিবাদের রাজনৈতিক ভাষাই বদলে দিয়েছেন। অপমানের বিরুদ্ধে মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবিটি তারা টিকে থাকা, সম্মিলিত শক্তি ও সংহতির পরিচয়ে রূপান্তর করেছেন। তাঁদের ছোট করার জন্য ব্যবহৃত নামটিকে তারা দৃঢ়তা ও সংহতির প্রতীকে পরিণত করেছেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সম্মিলিত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তারা অপমানকে আশায় রূপান্তর করেছেন। বিচ্ছিন্ন হতাশার সময়ে তারা সংহতিকে হাতিয়ার করেছেন এবং হাস্যরসকে ব্যবহার করেছেন ভয়কে ভোঁতা করতে। এই হাস্যরস ক্ষমতাবানদের নীরবতা ভাঙতে এবং তাদের অহংকার প্রকাশ করতে সাহায্য করেছে।

প্রচলিত গণমাধ্যম যখন যথাযথভাবে ঘটনাগুলো তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন আন্দোলনকারীরা নিজেরাই নিজেদের কথা প্রচার করেছেন। মুঠোফোন হয়ে উঠেছে ক্যামেরা, সংবাদকক্ষের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। তারা পাল্টা নজরদারি ও জবাবদিহি দাবি করেছেন। অনেকে তাদের পদ্ধতিকে অশালীন বললেও, তারা আসলে হাস্যরসের রাজনৈতিক শক্তিকে বুঝতে পারেননি। তরুণদের এই আন্দোলন একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতিকে সামনে এনেছে: নির্বাচনী ম্যান্ডেট কোনো সরকারকে মধ্যবর্তী সময়ে জবাবদিহি থেকে মুক্ত করে না। গণতন্ত্র কেবল সংসদ বা নির্বাচনে সীমাবদ্ধ নয়; তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মধ্যেও বেঁচে থাকে।

একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ বা সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও, এই আন্দোলনের মূল তাৎপর্য হলো—সংগঠিত নাগরিকেরা এখনো শক্তিশালী সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেন, এই বিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া। এই আত্মবিশ্বাস অংশগ্রহণকারী, স্বেচ্ছাসেবক, আইনি সহায়তাকারী ও দূর থেকে সমর্থনকারীদের। এখন দায়িত্ব হলো ভয়ভীতি বা গ্রেপ্তারের মুখে তাদের পাশে থাকা। তরুণদের এই নতুন যোগাযোগপদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক ভাষার প্রতি সম্মান জানানো প্রয়োজন। প্রবীণ প্রজন্মের কাছে থাকা দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতির সঙ্গে তরুণদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সীমাবদ্ধতা না মানার মানসিকতা যুক্ত হলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।

আন্তপ্রজন্ম সংহতির অর্থ তরুণদের অপেক্ষা করিয়ে রেখে প্রবীণদের রাজনীতির দিক নির্ধারণ করা নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামোয় থাকা মানুষদের তরুণদের কথা শুনতে হবে। আন্দোলনটি ভবিষ্যতে কী রূপ নেবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক আলোচনা প্রয়োজন। ১৯৬৮ সালের মে মাসে প্যারিসের শিক্ষার্থীদের সেই আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক: 'বাস্তববাদী হও, অসম্ভব দাবি করো।'

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশন উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।…

57 minutes ago

ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গভর্নর গ্যাভিন…

1 hour ago

মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক

ভোলার মনপুরা উপজেলায় ১০০ ইয়াবা উদ্ধারসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট…

1 hour ago

রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা

বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের জন্মদিনে আলিয়া ভাট শেয়ার করলেন তাদের একান্ত ভালোবাসার মুহূর্তের ছবি, যা…

2 hours ago

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন…

2 hours ago

সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায়

বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা গেছেন চিকিৎসক আঁচল রায়।…

2 hours ago

This website uses cookies.