Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক: ওয়াশিংটনের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ওয়াশিংটনের বাস্তব কৌশলগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার পার্থক্যের ওপর নির্ভর করছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিকে ইসরায়েলের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া একটি ভুল কৌশল হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়াবে, কিন্তু বাস্তবে এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যেতে পারে এবং বহুমুখী শক্তির উত্থান আরও দ্রুত হতে পারে।

সৌদি আরব দুই দশকের বেশি সময় ধরে তাদের অবস্থানে অটল যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি হওয়ার পরই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব। এটি নিছক দর-কষাকষির কৌশল নয়, বরং ২০০২ সালের আরব শান্তি উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি স্থায়ী কৌশলগত নীতি। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও সৌদি কর্মকর্তারা বারবার নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁদের নীতির ভিত্তি এই কাঠামোই।

ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব ভিশন ২০৩০-এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সংস্কার চালাচ্ছে এবং ইরান, চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। এমন বাস্তববাদী পরিবর্তনের মধ্যেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। তারা মনে করে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থন তাদের আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি কেবল দুই দেশের সম্পর্কের বিষয় নয়, এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এটি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং সৌদি পারমাণবিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখতে সহায়তা করবে। বর্তমান বিশ্বে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তির উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব নেই। তাই শর্ত আরোপের কূটনীতি তখনই সফল হয় যখন তা বাস্তবসম্মত হয়।

গাজা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে এবং আরব বিশ্বে জনমত ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে জোরালো হয়েছে। সৌদি নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছেন যে, তাঁরা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চান। যুক্তরাষ্ট্র যদি এর বিপরীত শর্ত দেয়, তবে তা সৌদি নীতির সঙ্গে সংঘাত তৈরি করবে। আট দশকের বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিকে নিজস্ব গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করাই হবে বাস্তবসম্মত, কারণ এটি জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা সাত দিন ধরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের…

1 minute ago

মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ

মানবজাতির জন্য ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার এক অনুপম আদর্শ হিসেবে মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনকে তুলে…

5 minutes ago

মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে এক নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায়…

33 minutes ago

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট…

1 hour ago

মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…

2 hours ago

নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ…

2 hours ago

This website uses cookies.