কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরীকে (১৫) পাশবিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় ওঠা মেয়েটিকে ৮ কিলোমিটারের গন্তব্যে না নিয়ে কেন ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং এই প্রক্রিয়ায় অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বেশ কয়েক বছর ধরে পরিবারটি কুমিল্লায় বসবাস করায় মেয়েটির ভৌগোলিক পরিচিতি থাকার কথা থাকলেও চালক তাকে কীভাবে উল্টো পথে নিয়ে গেলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
শনিবার সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া। তিনি জানান, অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনার সাথে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে চালক সুমন ছাড়া অন্য কারও উপস্থিতির প্রমাণ না পেলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, তদন্ত মাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাকি অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানের মাধ্যমে উদঘাটন করা হবে।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়ার একটি ধানখেত থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের অদূরেই পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভেতরে জামাকাপড় এবং পাশে একটি হাতব্যাগ পড়ে ছিল। তদন্তে দেখা যায়, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর কাছে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল কিশোরীটি। সে সময় থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সে কীভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজার ভ্রমণ করেছে—তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি এবং এই চার দিনে পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। তবে ঘটনার দিন বুধবার বিকেলে ওই কিশোরী ফোনে তার পরিবারকে রাতে বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিল বলে তৎকালীন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানিয়েছিলেন।
কক্সবাজার থেকে ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসে চড়ে বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে এসে নামে ওই শিক্ষার্থী। সেখানে একটি দোকানে মুঠোফোন চার্জ দেওয়ার পর রাত সোয়া ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় যায় এবং বাড়ি পৌঁছানোর জন্য রাত ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে সুমন মিয়ার অটোরিকশায় ওঠে। ৩০০ টাকায় ভাড়া চুক্তি করে সুমন তাকে নগরের রেসকোর্সে না নিয়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিজরা বাজারের দিকে চলে যান। সেখান থেকে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়ক হয়ে ভোরাজগৎপুরের নির্জন ফসলের মাঠে নিয়ে যান, যার মোট দূরত্ব ছিল অন্তত ৩০ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টার পথ পার হতে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হলেও রাতে ব্যস্ত দুটি মহাসড়ক অতিক্রমকালে কিশোরীটি সাহায্য চাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার নয়। অবশ্য চালক সুমনের দাবি, যাতায়াতের সময় মেয়েটি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি এবং শর্টকাটের কথা বলেই তাকে সেদিকে নেওয়া হয়েছিল।
ডিজিটাল ট্র্যাকিং অনুযায়ী, রাত ২টা ৫৮ মিনিটে কিশোরীটি তার বাবাকে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়েছিল। ঘুমে থাকার কারণে বাবা তখন বিষয়টি দেখতে পাননি। ভোরের দিকে ঘুম থেকে উঠে বার্তাটি দেখে তিনি মেয়েকে খুঁজতে বের হন। ততক্ষণে লালমাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল এবং বাবা সেখানে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। ঘটনা প্রসঙ্গে পঙ্কজ বড়ুয়া আফসোস প্রকাশ করে বলেন, মেয়েটি যদি ঘটনাস্থলে বা যাত্রা পথে অন্ততঃ জরুরি সেবা ৯৯৯-এ একটি ফোন করত, তবে হয়তো এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখতে হতো না। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে মেয়েটিকে অটোরিকশার পেছনের আসনের বাঁ দিকে একা বসে থাকতে দেখা গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে সুমন জানায়, নির্জন স্থানে অটোরিকশা থামানোর পর কিশোরীটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সুমনের সাথে তার হাতাহাতি হয়। সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে তাকে ধানখেতে নিয়ে মুখের অংশ মাটির দিকে চেপে ধরে পা দিয়ে মাথা দাবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তবে শারীরিক নির্যাতন হত্যার আগে না পরে করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর সুমন গাড়িটি সেখানে ফেলে আইফোনটি নিয়ে কেটে পড়ে। পরে কচিকাটা মসজিদের কাছের একটি পুকুরে গোসল সেরে অন্য একটি অটোরিকশায় চড়ে বাখরাবাদ এলাকায় যায়। সেখানে পুকুরপাড়ের জঙ্গলে মোবাইলটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়। শুক্রবার পুলিশ চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বাখরাবাদ থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করে।
এদিকে গভীর রাতে মহাসড়ক ও আশপাশের সংযোগ সড়কে যাত্রী নিরাপত্তা এবং পুলিশের টহল ব্যবস্থা নিয়েও সাধারণ মানুষের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল রাতে একই এলাকায় বাস থেকে নামার পর এক কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী সিএনজি চক্রের কবলে পড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। অন্য একটি সূত্রে, নিহত কিশোরীর মা যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের বাড়ি থেকে শুক্রবার অভিযোগ করেন যে, তাঁর মেয়ের এক বান্ধবী এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। বুধবার বিকেলে মেয়েটি এক বান্ধবীর সাথে থাকার কথা জানালেও নাম-পরিচয় গোপন রেখেছিল। ওই বান্ধবীকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মৃত্যুর আসল রহস্য বের হতে পারে বলে দাবি করেন মা। এই সমস্ত সন্দেহ ও অসংগতি খতিয়ে দেখে মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী অ্যান কারসনের গদ্যের বই 'ইরোস দ্য বিটারসুইট' থেকে প্রেম কেন তিক্তমধুর, সেই…
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একাধিক নেতাকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ…
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে প্রায় ২৯৮ থেকে ৩০৩ জন শিশু বসবাস করছে। তাদের…
সিলেটের ওসমানীনগরে জমি ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধের জেরে আদালত ওই সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা…
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের শেষ দিনে জয়ের সমীকরণ পরিষ্কার। রেকর্ড ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে…
লেবানন সীমান্তের কাছে উত্তর ইসরাইলে এক বিস্ফোরণে অন্তত একজন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন।…
This website uses cookies.