কর্মস্থল ত্যাগ এবং বিমানবন্দরে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারসহ বিভিন্ন অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত থাকা এই কর্মকর্তা রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন এবং গত ২৩ জানুয়ারি থেকে তিনি ‘পলাতক’ রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুই দিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতিসহ ছুটি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছিল। তবে তিনি ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিন, অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর প্রয়োজনীয় প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিনই তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে নিজেকে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দেন। এরপর রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ডিআইজি লাউঞ্জ ব্যবহার করে সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এর আগেও টুটুল চক্রবর্তী কয়েকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে ‘ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেছিলেন, যা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে জনসমক্ষে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এসব কাজ সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, আইনানুগ আদেশ প্রতিপালনে অবজ্ঞা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণীসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে কোনো লিখিত জবাব দেননি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরবর্তীতে ২ এপ্রিল অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ৭ মে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে টুটুল চক্রবর্তীকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ১৬ জুন দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি। এরপর সব অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশন বরখাস্তের পক্ষে পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি পাঠানো হলে গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নাটোরের এক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু অভিযোগ করেছেন যে, বিগত…
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহারের অভিযোগে এক চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২৬৫টি বাংলাদেশিসহ মোট…
নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আসলে একটি পরিকল্পিত নাটক…
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ সতর্কতা…
ফরিদপুরে বাবার মৃত্যুর পাঁচ দিন পর চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ…
সৌদি আরবে বিমানবন্দরসহ বেসামরিক স্থাপনায় ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে…
This website uses cookies.