Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

শতবর্ষ পেরিয়ে শেরপুরের পাঠকদের জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে গণগ্রন্থাগার

শহরের ব্যস্ততাময় জীবনের মাঝে শেরপুরের খান বাহাদুর ফজলুর রহমান জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার যেন এক প্রশান্তির নীড়। প্রতিদিন এখানে নিয়মিত বই পড়া, পত্রিকা দেখা, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কিংবা তথ্য অনুসন্ধানে ভিড় করেন ৫০ থেকে ৬০ জন পাঠক। সময়ের বিবর্তনে প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে আধুনিকায়িত করলেও মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ জাগিয়ে তোলার মূল লক্ষ্য আজও অটুট রয়েছে।

১৯২৬ সালে একদল উদ্যোক্তার হাত ধরে বেসরকারি উদ্যোগে ‘রিডিং ক্লাব’ হিসেবে এই গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই সময় সদস্যরা মাসিক চাঁদার বিনিময়ে পত্রিকা পড়ার এবং জামানত সাপেক্ষে বই বাড়িতে নিয়ে পড়ার সুযোগ পেতেন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর ১৯৮৪ সালে দানবীর খান বাহাদুর ফজলুর রহমানের স্বজনেরা শহরের মাধবপুরে এর জন্য জমি দান করেন। পরবর্তীতে গ্রন্থাগারটি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৯১ সালের জুলাই মাস থেকে এটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

বর্তমানে মাধবপুরের ৩৩ শতক জমিতে অবস্থিত একতলা ভবনের এই গ্রন্থাগারে ৪৮ হাজারের বেশি বইয়ের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি ও সাধারণ জ্ঞানের মতো বৈচিত্র্যময় বিষয়ের বইগুলো শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের চাহিদা মেটাচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রথম আলো, যুগান্তর, সমকাল, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা পড়ার সুযোগ রয়েছে এখানে। বর্তমানে নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ১২ জন।

প্রযুক্তির যুগে পাঠকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে গ্রন্থাগারটিতে পাঁচটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। পাঠকেরা ওয়াই-ফাই ব্যবহারের পাশাপাশি অনলাইন তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগও পাচ্ছেন। পাঠক রফিকুল ইসলামের মতে, ইন্টারনেটের যুগেও এই গ্রন্থাগারে পাঠকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও সরব পরিবেশ বইয়ের প্রতি মানুষের অটুট ভালোবাসারই প্রমাণ দেয়।

গ্রন্থাগারের সেবাকে শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে দিতে চারটি উপজেলার ৪৮টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ কর্নার ও নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরলসভাবে পাঠকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সহকারী পরিচালক ও গ্রন্থাগারিক সিরাজাম মনিরা জানান, জায়গার সংকটের কারণে অনেক কর্মসূচি ছোট পরিসরে করতে হচ্ছে। ভবনটি দোতলা করা হলে পাঠকদের জন্য আরও সুন্দর ও শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে এখানে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

তজুমদ্দিনে মাদরাসা ভাঙচুর ও প্রধান শিক্ষককে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন

ভোলার তজুমদ্দিনে মাদরাসার জমি দখলের চেষ্টা, স্থাপনা ভাঙচুর এবং প্রধান শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগ তুলে এর…

11 minutes ago

সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, আহত ৮ মাঝিমাল্লা চমেক হাসপাতালে

কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের হামলায় গুরুতর আহত ৮ মাঝিমাল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে…

15 minutes ago

চরফ্যাশন আইনজীবী সমিতির এপিপি হিরনের সদস্যপদ ফের স্থগিত

ভোলার চরফ্যাশন আইনজীবী সমিতির অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. হযরত আলী হিরনের সদস্যপদ পুনরায়…

21 minutes ago

পানির তীব্র সংকট: ২০৩০ সালের আগেই ফুরিয়ে যাবে কাবুলের জল!

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পানি সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বেসরকারি সংস্থা প্রসপার গ্লোবালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০…

25 minutes ago

ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভিযানসংক্রান্ত সহযোগিতা বজায় রেখে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি…

36 minutes ago

ডেঙ্গুতে আরও ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৯৬ নতুন রোগী

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০…

39 minutes ago

This website uses cookies.