Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

নামের মিলে ১০ মাস ধরে কারাগারে নিরপরাধ ব্যক্তি, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

নামের এবং বাবার নামের আংশিক মিল থাকায় এক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামির বদলে ১০ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন মো. আলমাছ নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে সম্পূর্ণ নিরপরাধ দাবি করে তাঁর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে তাঁকে কারাগারে রাখা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল মিরপুর থানায় একটি অস্ত্র মামলা করে পুলিশ। মামলায় আসামি করা হয়েছিল মো. আলমাছ (২৪) ও মো. নাজমুল আলম মামুনকে (২২)। ২০০৪ সালের ১৯ জুন ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১১ এই মামলায় আলমাছকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন এবং অপর আসামি নাজমুলকে খালাস দেন। রায় ঘোষণার সময় আলমাছ পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আলমাছের বাবার নাম মো. খলিল আহমেদ এবং গ্রাম দক্ষিণ বাহ্রা, দোহার, ঢাকা উল্লেখ করা হয়েছিল। রায়ে তাঁর বর্তমান ঠিকানা আহমেদনগর, পাইকপাড়া, মিরপুর দেখানো হয়।

অন্যদিকে, বর্তমানে কারাগারে থাকা মো. আলমাছের বাবার নাম শেখ খলিল এবং গ্রাম সুন্দরীপাড়া, দোহার, ঢাকা। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। ২০০২ সালে মামলা দায়েরের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর ৪ মাস, অথচ মামলার এজাহারে আসামি আলমাছের বয়স ২৪ বছর উল্লেখ করা হয়েছিল। এর আগে গত বছরের ৫ নভেম্বর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। এর আগে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাঁর জামিন আবেদন করা হলে গত বছরের ২৩ নভেম্বর তা খারিজ হয়ে যায়।

রিটের নথিপত্র থেকে জানা যায়, নামের মিল থাকার কারণে ২০১৮ সালেও এই মামলায় আটক হয়েছিলেন এই আলমাছ। তবে আসামির নাম ও ঠিকানায় আংশিক ভুল থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বাবার জিম্মায় তিনি মুক্তি পান। সে সময় ২ নম্বর কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান এক প্রত্যয়নপত্রে জানান, সাজাপ্রাপ্ত আলমাছ প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁর বাড়িঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছেন এবং বর্তমানে আটক আলমাছ প্রকৃত আসামি নন। এছাড়া গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দোহারের ১ নম্বর নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানও প্রত্যয়নপত্র দিয়ে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি প্রকৃত আসামি নন。

তবে পুলিশ প্রতিবেদনের দাবি, দোহারের বাহ্রায় বসবাসের সময় আলমাছের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ বা ২০০৬ সালের দিকে নদীভাঙনে তাঁর ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেলে তিনি পরিবার নিয়ে সুন্দরীপাড়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন এবং আত্মগোপনে থাকেন। পুলিশের স্থানীয় তদন্তে জানা যায়, দক্ষিণ বাহ্রায় মো. আলমাছ, বাবা শেখ খলিল ওরফে খলিল আহমেদ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২০ মার্চের পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে নিজের মুক্তি, পরিচয় যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে গত ১৭ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন কারাগারে থাকা আলমাছ। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দেন। আদেশে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তাঁর তত্ত্বাবধানে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতার জন্য দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য কার্যতালিকায় আসবে।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ, আবদুল্লাহ আবু সাঈদ ও আতিকুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী। আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, কাউকে গ্রেপ্তার ও আদালতে সোপর্দ করার আগে নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে যাচাই করা দায়িত্বপ্রাপ্তদের কর্তব্য। এই ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। ভবিষ্যতে এমন হয়রানি এড়াতে আসামির পরিচয় নিশ্চিতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা জরুরি বলে তিনি মত দেন।

জিম্মানামার (প্রসেস নং-১৬/২০১৭) মাধ্যমে তখন তিনি মুক্তি পান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক: প্রেস কাউন্সিল

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব…

9 hours ago

ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৪৬৫, মামলা ৭৩

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা…

9 hours ago

কয়রার যোগাযোগ সংকট কাটাতে ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ

খুলনার কয়রা উপজেলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের একটি মাস্টার প্ল্যান…

9 hours ago

দেশে ২ কোটি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা, লক্ষ্য আরও ৩৫ লাখ

সারা দেশে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দুই কোটি শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী…

9 hours ago

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র…

9 hours ago

ভাঙ্গুড়ায় নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

পাবনার ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১ লাখ ২০…

10 hours ago

This website uses cookies.