Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

টাঙ্গাইলের আলোচিত খান পরিবারের প্রথম কোনো সদস্যের দণ্ড

প্রায় চার দশক ধরে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজিসহ নানা অপরাধের অভিযোগে টাঙ্গাইলের ‘খান পরিবার’ বিভিন্ন সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা থাকলেও এত দিন কেউ সাজা পাননি। তবে সোমবার ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় পরিবারের ছোট ছেলে সানিয়াত খান (বাপ্পা)-এর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এই পরিবারের কোনো সদস্য আইনি সাজার মুখোমুখি হলেন।

টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. ফয়সাল আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন। রফিকুল ইসলাম ফারুক সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। এই হত্যা মামলায় সানিয়াতসহ মোট তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

খান পরিবারের উত্থান ও প্রভাবের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান খান এবং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সময় এই পরিবারের সদস্যরা একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন। শামসুর রহমানের ভাতিজা আমিনুর রহমান খান (বাপ্পি), আমানুর রহমান খান (রানা) ও সহিদুর রহমান খান (মুক্তি) শহরের একাংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০০৩ সালের নভেম্বরে আমিনুর নিহত হওয়ার পর পরিবারের অন্য দুই ভাই জাহিদুর রহমান খান (কাকন) ও সানিয়াত খান (বাপ্পা) বাহিনীতে সক্রিয় হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১২ সালে আমানুর রহমান খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, সহিদুর রহমান খান পৌরসভার মেয়র হন এবং সানিয়াত খান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।

দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা থাকলেও সাজা হয়নি। আমানুরের বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলাসহ অর্ধশতাধিক, সহিদুরের বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলাসহ প্রায় ৪০টি, জাহিদুরের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা এবং সানিয়াতের বিরুদ্ধে চারটি হত্যাসহ ডজনখানেক মামলা ছিল। রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার বা বাদীপক্ষকে চাপের মুখে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করার কারণে এত দিন তারা পার পেয়ে গেছেন। গত বছর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলা থেকেও চার ভাই খালাস পেয়েছিলেন।

২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকালে প্রাতর্ভ্রমণে বের হওয়ার সময় রফিকুল ইসলাম ফারুককে শহরের বটতলা বাজার এলাকায় কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই লাভলু মিয়া সদর থানায় মামলা করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে, সানিয়াত খান ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে শাজাহান, সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। মামলার তদন্ত চলাকালে ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারকৃত ওই তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সানিয়াতের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের আগেই তিনি ২০১৪ সালে দেশ ত্যাগ করেন। এছাড়া ফারুক হত্যা মামলায় আমানুর ও সহিদুর কারাবাসের পর মুক্তি পেলেও বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং জাহিদুর রহমানও দেশত্যাগ করেছেন।

১৯৯০ সালে কাদের সিদ্দিকী ভারত থেকে দেশে ফেরার পর খান ও সিদ্দিকী পরিবারের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে।

এর আগে ২০১১ সালে সহিদুর টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…

4 minutes ago

নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ…

21 minutes ago

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর সেভেন…

29 minutes ago

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে…

31 minutes ago

সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাত সাবেক সংসদ সদস্য এবং…

34 minutes ago

আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী…

54 minutes ago

This website uses cookies.