Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিনহাজুলের মৃত্যু: ডায়াবেটিস শনাক্তে দেরি নিয়ে পরিবারের আক্ষেপ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। এই পরীক্ষার শেষ দিকে এসে এক মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম। ১৫ আগস্ট ব্যবহারিক পরীক্ষার শেষ দিনে যখন সহপাঠীরা পরীক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন মিনহাজুল ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

মিনহাজুলের বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ ও মা ফাহমিদা আক্তার জানান, ছেলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল তা তাঁরা আগে জানতেন না। ৬ আগস্ট থেকে মিনহাজুল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকেরা বারবারই বিষয়টিকে ‘পরীক্ষার চাপ’ বা ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং মনোচিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কোথাও তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা বা ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়নি। বরং স্যালাইন ও ঘুমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চালানোয় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

১৩ আগস্ট মিনহাজুলকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে ৩৮ মিলেমোল/লিটারে পৌঁছেছে। এই প্রথম মা-বাবা জানতে পারেন তাদের সন্তান আগে থেকেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ মোহনা জামান জানান, পরীক্ষার সময় তীব্র মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন ‘স্ট্রেস হরমোন’ বেড়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে দ্রুত জটিল করে তুলতে পারে। ইনসুলিনের তীব্র ঘাটতির কারণে মিনহাজুলের ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস তৈরি হয়েছিল, যা ডায়াবেটিসের একটি অত্যন্ত গুরুতর জটিলতা। এর ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে মারাত্মক পানিশূন্যতা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়।

মিনহাজুল সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মিনহাজুল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্যাপ্টেন ছিলেন। বিএনসিসি অ্যাডমিন, প্যারেডের সেন্ট্রাল কমান্ডার ও ফটোগ্রাফারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, ছেলেকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ২৩ আগস্ট সকালে চিকিৎসকেরা আর সম্ভব নয় বলে জানান। সব মিলিয়ে তাঁর চিকিৎসায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মা ফাহমিদা আক্তারের আক্ষেপ, হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনেক দেরিতে ডায়াবেটিসের বিষয়টি ধরা পড়ল; চিকিৎসকেরা যদি আগেই পরীক্ষা করাতেন, তবে হয়তো ছেলেটাকে বাঁচানো যেত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর…

27 minutes ago

বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের চারটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে রয়েছে…

36 minutes ago

শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন

রাজধানীর শাহ আলী থানার ডি ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের পাশে একটি কালো পলিথিনের ব্যাগ থেকে…

1 hour ago

সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা

সৌদি আরবের মক্কা নগরীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা…

1 hour ago

রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত

রাজশাহীর মোহনপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা জান্নাতুন নিহত হয়েছেন। এ সময় বাবাকে কুপিয়ে জখম…

1 hour ago

সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত গোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী সিভিল…

2 hours ago

This website uses cookies.