পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নামের মিল থাকায় এক নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ২০ দিন কারাগারে রাখার পর অবশেষে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ভুক্তভোগী মো. জলিল হাওলাদার (৪৭) পেশায় একজন জেলে। মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। ভুল ব্যক্তি গ্রেপ্তারের এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পরবর্তী ধার্য তারিখে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রকৃত আসামি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ভুক্তভোগী জলিল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে। অন্যদিকে, মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদার (৩৫) একই এলাকার আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে, যিনি ২০২৩ সাল থেকে সৌদি আরবে আছেন। তাঁর মায়ের নাম মাজেদা বেগম।
জলিল হাওলাদারের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর জানান, নাম ও পরিচয়ে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ ভুল করে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার আদালতে এই বিভ্রান্তির বিষয়টি তুলে ধরা হলে আদালত জলিলকে জামিন দেন। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালে তিনি মুক্তি পান।
গত ১৯ আগস্ট দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে মহিপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন। ওই দিনই তাঁকে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারের সময় জলিল হাওলাদারের মেয়ে জেসমিন আক্তার পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাচাই করার অনুরোধ করেছিলেন। তবে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের আপত্তি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে তাঁকে আদালতে পাঠায়।
প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাবা আবদুল মালেক হাওলাদার জানান, তাঁর ছোট ছেলে জলিল হাওলাদার ২০২৩ সালের দিকে সৌদি আরবে যান এবং এরপর আর দেশে ফেরেননি। তাঁর ছেলের পরিবর্তে পুলিশ অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি তিনি মহিপুর থানা-পুলিশের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠি গ্রামের রফিক মুন্সির ছেলে আলমগীর হোসেন অর্থ প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি করেছিলেন। মামলায় কলাপাড়ার শিববাড়িয়া এলাকার আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে জলিল হাওলাদারকে একমাত্র আসামি করা হয়, যার কাছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই মামলায় ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং ৮ মে আসামির সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির মায়ের নাম বা সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নম্বর না থাকায় এই ভুলটি হয়েছে। তবে ভুল ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর তাঁর জামিন ও আইনি সহায়তায় পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরকার তা সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের…
আন্দালুসের বিশিষ্ট সুফি সাধক আবু ইয়াকুব ইউসুফ ইবন ইয়াখলাফ আল-কুমির জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনার অনন্য…
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।…
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৯১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও…
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে…
This website uses cookies.