Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ জানাল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার রহস্য উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেফ্রিজারেটরে রাখা ঠান্ডা মাংস স্বাভাবিক তাপমাত্রায় না এনে সরাসরি অতিরিক্ত তাপে রান্না করার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে ওই মাংসে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা পচনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে এই মাংসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত পরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরুর মাংসের লাল রঙের জন্য দায়ী উপাদানটিকে বলা হয় ‘মায়োগ্লোবিন’। ফ্রিজে থাকা ঠান্ডা মাংস স্বাভাবিক তাপমাত্রায় না এনে হঠাৎ অতিরিক্ত গরম তেলে দেওয়া হলে এই উপাদানের পরিবর্তন ঘটে। ফলে মাংসের লাল রং বদলে সবুজ হয়ে যেতে পারে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্যবিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানার সই করা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংগৃহীত নমুনায় ক্ষতিকারক বা রং তৈরিকারী কোনো ব্যাকটেরিয়া ছিল না। মাংসটিতে কোনো পচা গন্ধ বা আঠালো ভাবও পাওয়া যায়নি। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণ করায় প্রতিবেদনে ‘ধারণা করা হচ্ছে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ জুলাই। পাইকগাছা পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির ২৫ জন কর্মচারী একটি পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। তারা স্থানীয় পাইকগাছা বাজারের মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের দোকান থেকে আগের দিন জবাই করা ও ফ্রিজে রাখা চার কেজি গরুর মাংস কেনেন। কিন্তু রান্না শুরু করার কিছুক্ষণ পরই মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হতে শুরু করে এবং পরে তা আরও গাঢ় হয়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত কর্মচারীরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে প্রথমে বিক্রেতার দোকানে এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় যান। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এরপর পাইকগাছা উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মণ্ডল রান্না করা মাংসের নমুনা এবং বিক্রেতা ইসমাইলের ফ্রিজ থেকে আরও ৬০০ গ্রাম কাঁচা মাংস সংগ্রহ করেন। গত ২৪ জুলাই এই দুই ধরনের নমুনা খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

মাংস বিক্রেতা ইসমাইল শুরু থেকেই তার মাংসে কোনো সমস্যা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছিলেন। তার দাবি ছিল, একই গরুর মাংস অন্য ক্রেতারাও নিয়েছিলেন, কিন্তু শুধু মডার্ন বেকারির কর্মচারীরাই অভিযোগ করেছেন। মডার্ন বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেন বলেন, ‘আমরা ওই মাংস খাইনি, প্রশাসনকে জানিয়ে ফেলে দিয়েছিলাম। এখন পরীক্ষার ফল জানতে পেরে ভালো লাগছে যে মাংসে ক্ষতিকর কিছু ছিল না। তবে মাংসটা তো আর কেউ খেতেই পারল না।’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরকার তা সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি…

13 minutes ago

মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের…

20 minutes ago

আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক

আন্দালুসের বিশিষ্ট সুফি সাধক আবু ইয়াকুব ইউসুফ ইবন ইয়াখলাফ আল-কুমির জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনার অনন্য…

28 minutes ago

সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।…

1 hour ago

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৯১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও…

1 hour ago

জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে…

1 hour ago

This website uses cookies.