ঢাকার কেরানীগঞ্জে গত সাত দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের গ্যাসের সংকট থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানাগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। গ্যাসের অভাবে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকটও দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভের মুখে তিতাস গ্যাসের জোন-৫ (জিনজিরা) অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই শত শত ভুক্তভোগী মানুষ অফিসে ভিড় করছেন এবং কারো কারো বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার জোন-৫ অফিসে গিয়ে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে তিতাসের বৈধ গ্রাহকের চেয়ে অবৈধ সংযোগের সংখ্যা অনেক বেশি। ২০১৬ সালে বৈধ সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর গত ১৫ বছরে অসাধু চক্রের মাধ্যমে মিল-ফ্যাক্টরি, ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও বহুতল ভবনে বিপুলসংখ্যক অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তিতাস গ্যাসের জোন-৫ অফিসের ম্যানেজার প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র মৈত্রের মতে, এলাকায় ৬০-৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাসের লাইন রয়েছে, যা তাদের অজান্তেই অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থাপন করা হয়েছিল। তিনি জানান, গত এক বছরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্ধশত অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
গ্যাস সংকটের কারণে ৫,৬৭৩টি শিল্প গ্রাহকের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তিতাসের তথ্যমতে, কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইনের স্বাভাবিক চাপ যেখানে ১০-১২ এমবিএআর থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে তা মাত্র ২-এ নেমে এসেছে। লাইন লিক, রেগুলেটর সমস্যা, পাইপে পানি ঢোকা এবং লাইনে চাপ কম থাকার কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে তিতাস স্বীকার করেছে। এদিকে, গ্যাস ঠিকাদার শাহ আলম জানান, কোন্ডা ইউনিয়নের পানগাও এলাকায় ডিআরএসএ বাল্ব পরিবর্তন করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট প্রসঙ্গে জানা যায়, জিনজিরার বাইরে বিভিন্ন দোকানে সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৫৯৮ টাকা হলেও তা ১,৭০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগানগর, শুভাঢ্যা ও কালিন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন দোকানে বসুন্ধরা, যমুনা, মেঘনা ফ্রেশ, ইউনাইটেড, পেট্রোম্যাক্স, নাভানা ও টোটালগ্যাসের মতো ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেরানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফাতেমা আমিন একা জানান, জিনজিসহ নয়টি ইউনিয়নে গত সাত দিন ধরে গ্যাস নেই। এলাকাবাসী এখন লাকড়ির চুলা, বিদ্যুৎ অথবা রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৫, জিনজিরা অফিসের ম্যানেজার প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র মৈত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাসাবাড়িতে চুলার জন্য সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ সাধারণত খুব কম। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে প্রায় ২০-৩০ এমবিএআর বা পাইপলাইনের প্রেসার ১০-১২ থাকে। বর্তমানে কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইনের প্রেসার ২ আছে। যে কারণে কেউ গ্যাস পাচ্ছে না। বড় ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ রয়েছে।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে লুপাস নেফ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়ে সাদিয়া আক্তার নামে ১০ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু…
রংপুরের চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত…
সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন শুরু…
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মদ্যপ অবস্থায় মারামারির ঘটনায় গুরুতর আহত আলমগীর হোসেন (২৭) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন…
সারা দেশে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে খুনাখুনি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গত সাত মাসে ঢাকাসহ…
চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন রুটে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হলে ৩১…
This website uses cookies.