সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় সোনাই নদে শুক্রবার বিকেলে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় একটি পক্ষের আপত্তির মুখেও আয়োজকেরা এই আয়োজন সম্পন্ন করেন। তবে দিনের আলো ফুরিয়ে অন্ধকার নেমে আসায় প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলাটি অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে হয়েছে। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, পরবর্তীতে বৈঠকের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।
বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে তিনটি নৌকা অংশ নেয়—গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’, হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ এবং বড়লেখার ঘোড়াকান্দির ‘স্বাধীন বাংলা নাও’। বিজয়ী নৌকার জন্য পুরস্কার হিসেবে একটি বড় আকারের গরু এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকার জন্য একটি রেফ্রিজারেটর রাখা হয়েছিল।
প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই সোনাই নদের দুই পাড়ে হাজারো দর্শক জড়ো হন। সংকেত পাওয়ার পরপরই মাঝিদের বৈঠার ছন্দে উত্তাল হয়ে ওঠে নদ। শিশু ও নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে এই উৎসব উপভোগ করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে নৌকাবাইচের সময় সোনাই নদে পুলিশ সদস্যদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় টহল দিতে দেখা যায়।
আয়োজক কমিটির সদস্য তাজউদ্দিন জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে সোনাই নদে এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারও আয়োজনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় কিছু মানুষ এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি তুলেছিলেন। বারইগ্রাম বাজার মসজিদে অনুষ্ঠিত সভায় অতীতে নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, যানজট ও ফসলি জমির ক্ষতির অভিযোগ তুলে এই আয়োজন বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এবং এটি ধর্মবিরোধী কোনো কাজ নয়। তিনি প্রতিবছর ঐক্যবদ্ধভাবে এই আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি শুকনা মৌসুমে এলাকার রাস্তা সংস্কার এবং নদীভাঙন রোধে প্রকল্প জমা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ রেজা ও বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনটি নৌকা তিনটি ধাপে লটারির মাধ্যমে লড়াই করার কথা ছিল। শেষ পর্বে ‘পাগলা নাও’ ও ‘বাঘ নাও’ অংশ নেয়। মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান জানান, ফাইনাল অমীমাংসিত থাকায় পরবর্তী সময়ে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচটি আজ বেলা ১১টায় সরাসরি সম্প্রচার…
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর সাত মাস পর উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানি ও…
রাজধানীর বাংলামটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা তিনটি ককটেল ছুড়েছে। এর মধ্যে…
পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকশ্রেণি কীভাবে বাংলা ভাষা ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতি ঔপনিবেশিক ও বর্ণবাদী…
২০২৬ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স অনুযায়ী, ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম অবস্থানে রয়েছে। সূচকে বাংলাদেশের…
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ দেশের লাভজনক স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার পদক্ষেপকে আত্মঘাতী…
This website uses cookies.