Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

নতুন রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে: জেনে নিন শতাব্দীপ্রাচীন এই ভবনের ইতিহাস

নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেওয়ার পর আজ রোববার শতাব্দীপ্রাচীন এই সরকারি বাসভবন ও দপ্তরে উঠলেন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার পর পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের জন্য এই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ড এবং এশিয়াটিক সোসাইটির ‘ঢাকা কোষ’ অনুযায়ী, দিলকুশা এলাকায় দানা দিঘির ময়দানে অবস্থিত এই জায়গাটি একসময় ঢাকার নবাব পরিবারের সম্পত্তি ছিল। বঙ্গভঙ্গের পর তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের জন্য বাসভবন নির্মাণে আগ্রহী হলে নবাব পরিবারের স্যার সলিমুল্লাহ দিলকুশায় তাঁদের পারিবারিক বাগানে এ বাসভবন নির্মাণের প্রস্তাব করেন। এ জন্য বাগানবাড়ির দক্ষিণ অংশটি ব্রিটিশ সরকারের কাছে ইজারা দেওয়া হয়। স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার নিজেই এই বাসভবনের জায়গাটি নির্বাচন করেন এবং ১৯০৬ সালেই সেখানে ওঠেন। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার আগ পর্যন্ত এখানে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের আইন পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হতো এবং বিভিন্ন সময় অভিজাত শ্রেণির মানুষদের অভ্যর্থনা জানানো হতো।

১৯০৫ সালে ২৩ দশমিক ৫ হেক্টর জায়গায় শুরু হওয়া এই স্থাপনাটি শুরুতে ‘গভর্নমেন্ট হাউস’ নামে পরিচিত ছিল। সেগুন কাঠের তৈরি মেঝে মাটি থেকে চার ফুট উঁচুতে থাকায় এটি ‘টিম্বার প্যালেস’ বা কাঠের রাজপ্রাসাদ হিসেবে পরিচিতি পায়। ভবনের মেঝের আয়তন ছিল ২৫ হাজার ১২৮ বর্গফুট।

১৯৬১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে কাঠের প্রাসাদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে তৎকালীন গভর্নর আজম খানের উদ্যোগে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। স্থপতি মঈনুদ্দিন চিশতির নকশায় ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি ৮৪ হাজার বর্গফুটের নতুন দোতলা ভবনটির কাজ ১৯৬৪ সালের ১৭ জানুয়ারি শেষ হয়। এই নতুন প্রাসাদে দরবার হল, গভর্নরের শোবার ঘর, দপ্তর এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বেশ কয়েকটি কক্ষ যুক্ত করা হয়।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমান হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুনরায় সংস্কার করা হয়। স্বাধীনতার পর ২৩ ডিসেম্বর এখানে নতুন দেশের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং ভবনটিকে রাষ্ট্রপতির আবাস ও দপ্তর ও আবাস হিসেবে ঘোষণা করে এর নাম রাখা হয় বঙ্গভবন। সময়ের প্রয়োজনে বর্তমানে এখানে অতিরিক্ত কক্ষ যুক্ত করা হয়েছে এবং দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের চিত্রকর্ম দিয়ে এর অভ্যন্তর সাজানো হয়েছে। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পরও প্রাদেশিক গভর্নরকে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকায় এসে এই দিলকুশার গভর্নর হাউসে অবস্থান করার বিধান চালু ছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

ব্রুকলিনে বাংলাদেশি ইউসুফ হত্যা: ঘাতকের ছবি প্রকাশ করল নিউইয়র্ক পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩১ বছর বয়সী জেসাস অ্যাকোস্তার…

49 seconds ago

চারজনের খুনের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থতা সরকারের চরম ব্যর্থতা: গোলাম পরওয়ার

সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার কোনো ক্লু এখনো আইনশৃঙ্খলা…

10 minutes ago

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইমদাদুল হুদা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন…

25 minutes ago

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট: সংস্কার নিয়ে ক্ষোভ

সরকার আংশিক সংস্কারের পথে হাঁটছে এমন অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার…

41 minutes ago

ষড়ঋতুর সৌন্দর্য ও দেশপ্রেমের মেলবন্ধন: এক অনন্য বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ষড়ঋতুর অপূর্ব রূপ বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং দেশপ্রেমের গভীর সম্পর্ক নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা।

46 minutes ago

জয় বাংলা স্লোগান: শোকজ পেলেন সিরাজগঞ্জের বিএনপি নেতা মিন্টু শেখ

সিরাজগঞ্জ পৌর বিএনপির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. মিন্টু শেখকে মানববন্ধনে বক্তব্য শেষে দলীয় শৃঙ্খলা…

56 minutes ago

This website uses cookies.