Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১৯৯১ সালের সেই উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি কি ঘটবে?

প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনকে ঘিরে সংসদের ভেতরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক উত্তেজনা ও বিতর্ক।

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যায়। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে অবস্থান নেয়। এরপর ওই বছরই সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারাই ছিলেন ওই নির্বাচনের একমাত্র দুই প্রার্থী। তৎকালীন সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ভোটার ছিলেন ৩৩০ জন সংসদ সদস্য। তবে ভোট দেন ২৬৪ জন এবং ৬৬ জন ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। নির্বাচনে ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন আবদুর রহমান বিশ্বাস, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষকেই ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। স্পিকারের জন্য নির্ধারিত বড় চেয়ারটির পরিবর্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য সেখানে একটি ছোট চেয়ার রাখা হয়। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলে সংসদ সদস্যরা একে একে ভোট দেন। অধিবেশন কক্ষের ভেতরে একাধিক বুথ স্থাপন করা হয়েছিল এবং নির্বাচন কর্মকর্তারা সেখানে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন।

তবে ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পরই সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সাজেদা চৌধুরীসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে ভোটগ্রহণের বিরোধিতা করেন। তারা প্রকাশ্য ভোটের সমালোচনা করে হট্টগোল করেন এবং ‘শেইম, শেইম’ বলে প্রতিবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার বিধান ছিল। ফলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অভিযোগ ছিল, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা হচ্ছে না এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।

নির্বাচন শেষে ভোট গণনা করে আবদুর রহমান বিশ্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর কয়েক দফা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

Recent Posts

বেসিস নির্বাচন: ২৬ সেপ্টেম্বর ভোট, চূড়ান্ত তালিকা ৫ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।…

4 minutes ago

ব্রুকলিনে বাংলাদেশি ইউসুফ হত্যা: ঘাতকের ছবি প্রকাশ করল নিউইয়র্ক পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩১ বছর বয়সী জেসাস অ্যাকোস্তার…

10 minutes ago

চারজনের খুনের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থতা সরকারের চরম ব্যর্থতা: গোলাম পরওয়ার

সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার কোনো ক্লু এখনো আইনশৃঙ্খলা…

19 minutes ago

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইমদাদুল হুদা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন…

34 minutes ago

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট: সংস্কার নিয়ে ক্ষোভ

সরকার আংশিক সংস্কারের পথে হাঁটছে এমন অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার…

50 minutes ago

ষড়ঋতুর সৌন্দর্য ও দেশপ্রেমের মেলবন্ধন: এক অনন্য বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ষড়ঋতুর অপূর্ব রূপ বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং দেশপ্রেমের গভীর সম্পর্ক নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা।

55 minutes ago

This website uses cookies.