Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

র‍্যাব বিলুপ্ত নয়, নতুন নামে পুনর্গঠনের পথে সরকার

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত না করে নাম পরিবর্তন করে বাহিনীটিকে টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন একটি আইনের খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীটির নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল রেসপন্স ফোর্স (এসআরএফ) অথবা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইনের আদলে তৈরি এই খসড়ায় নতুন দুটি নামের যেকোনো একটি চূড়ান্ত করা হবে।

গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে খসড়াটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, র‍্যাবকে নামমাত্র পুলিশের অধীনে না রেখে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া র‍্যাবের কার্যক্রম সারা দেশ থেকে কমিয়ে কেবল মহানগর এলাকায় সীমাবদ্ধ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে জেলা পুলিশে যেখানে জনবলের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে র‍্যাবের কার্যক্রম বিস্তৃত করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আগামী ২৯ জুলাই সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সবার মতামত নিয়ে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় ৯টি অধ্যায়ে ২৯টি ধারা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিটের গঠন, দায়িত্ব, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা, ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত, সদস্যদের অপরাধ ও শাস্তি, শৃঙ্খলা, অভিযোগ প্রতিকার, প্রশিক্ষণ এবং পুরোনো র‍্যাবের সম্পদ ও সদস্য স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। এই কাঠামো কার্যকর হলে র‍্যাব নামটি বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির সদস্য, স্থাপনা, অস্ত্র, সরঞ্জাম, মামলা, চুক্তি ও দায়দেনা নতুন ইউনিটের অধীনে চলে যাবে। এটি কার্যত র‍্যাবের বিলুপ্তি নয়, বরং নাম বদলে পৃথক আইনের অধীনে পুনর্গঠন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। এই বাস্তবতার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন এই আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে। নতুন প্রস্তাবিত ইউনিটটি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। এর মহাপরিচালক হবেন বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, যাকে সরকার নিয়োগ দেবে। মহাপরিচালক সরকারের অনুমোদন নিয়ে ইউনিটকে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশনে ভাগ করতে পারবেন এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকের আদেশ ও নিয়ন্ত্রণে থেকে ইউনিট পরিচালনা করবেন।

খসড়ায় বর্তমান র‍্যাবের বহু বাহিনীভিত্তিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব নেই। পুলিশ ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী ও অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্যদের প্রেষণ বা সাময়িকভাবে সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের সুপারিশ ছিল শুধুমাত্র পুলিশের প্রশিক্ষিত সদস্যদের নিয়ে ইউনিট গঠনের, তবে খসড়ায় সেই সুপারিশ পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। নতুন ইউনিটের আট ধরনের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও সাইবার অপরাধ দমন, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা।

আইনের খসড়ায় পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। এছাড়া নতুন ইউনিটকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনো সময় তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের উপপরিদর্শক বা তার ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন। খসড়ায় পাঁচ সদস্যের একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব থাকলেও, এর চার সদস্যই পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হওয়ায় কমিটির স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান বলেন, শুধু নাম বা পোশাক পরিবর্তনের মাধ্যমে র‍্যাবের সংস্কার হবে না। বাহিনীর ক্ষমতা, কাঠামো ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব, তাই এখানে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের রাখা উচিত নয়। সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের নিয়মিত বেসামরিক আইন প্রয়োগের কাজে যুক্ত করলে বলপ্রয়োগ, জিজ্ঞাসাবাদ ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। র‍্যাবে দায়িত্ব পালন শেষে মূল বাহিনীতে ফিরে যাওয়া অনেক সদস্যকে এখন আগের কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাঁদের মূল বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয়

ইসলামে ইবাদতের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচতে নিয়তের…

7 minutes ago

জমি ছাড়ার নোটিশে দিশেহারা নাটোরের দিনমজুরের কলেজপড়ুয়া তিন মেয়ে

নাটোরের গুরুদাসপুরে অন্যের জমিতে ১২ বছর ধরে বসবাস করা এক দিনমজুরের পরিবারকে তিন মাসের মধ্যে…

11 minutes ago

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সাবেক…

28 minutes ago

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার…

37 minutes ago

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও বিদায়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।…

40 minutes ago

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে একরাতে ৬২৪ জন আটক

কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২৪ জনকে আটক…

48 minutes ago

This website uses cookies.