Header Premium (728×90)

জাতীয়

রংপুরে আগেভাগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর।

দুই দশক আগেও ৩৬ গন্ডায় অর্থাৎ ৩৬ হালিতে ১০০ (৪টায় ১ হালি) আম বিক্রি হতো রংপুর অঞ্চলে। বর্তমানে হালি কিংবা গন্ডার কথা মানুষ ভুলে গেছে। এ প্রজন্মের অনেকেই জানেন না গন্ডা হিসেবে আম বিক্রি একসময় ছিল এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। একসময় গন্ডা ছাড়া আম কেনাবেচার কথা ভাবাই যেত না।

বিগত বছরগুলোতে রংপুরের সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হতো ২০ জুন।

এবার দাবদাহের কারণে পাঁচ দিন এগিয়ে এনে (১৫ জুন) সোমবার করা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাত শুরু হয়েছে। মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে এর উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়া এবং উৎপাদিত আমের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গন্ডার হিসাব মানুষ ভুলে গেছে। এখন শুরু হয়েছে কেজির হিসাব। প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক বছর থেকে অনলাইনেও আমের ব্যবসা চলছে।

জানা গেছে, হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এবার বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে এ আম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করলেও সুমিষ্ট এ আম পাকলে তিন-চার দিনের মধ্যে খেতে হয়। তা না হলে নষ্ট হয়ে যায়। প্রবীণ আলী হোসেন মোল্লা বলেন, একসময় বৈশাখ, জৈষ্ঠ এবং আষাঢ় মাসে হরেকরকম আমে বাজার ভরপুর থাকত। শহরে যারা আম বিক্রি করতে আসত তারা পদাগঞ্জসহ অন্যান্য হাটে ৩৬ গন্ডায় ১০০ আম কিনে এনে শহরে ওই আম ৩২ গন্ডায় ১০০ বিক্রি করত। এখন হালি কিংবা গন্ডার প্রচলন উঠে গিয়ে কেজিতে আম বিক্রি হচ্ছে। ১৫-২০ বছর আগেও ৩৬ গন্ডায় ১০০ আম প্রকারভেদে ২৫-৫০ টাকায় বিক্রি হতো।

ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা ল্যাংড়া, কালা ন্যাংড়া, কলিকাতা ল্যাংড়া, মিশ্রিভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, সাদা রচি, চৌসা, আঁটিসহ হরেক প্রজাতির আম গন্ডা হিসেবে বিক্রি হতো। এসব আমের সংখ্যা এখন কমে গেছে।

বর্তমানে হাঁড়িভাঙা প্রজাতির আমই বাজার দখল করেছে এবং এ আমের চাহিদাই বেশি। একটি হাঁড়িভাঙা আমের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় হাঁড়িভাঙার চাহিদা দেশব্যাপী।

তার পরেও তিনি অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু কিছু আম গন্ডা অথবা হালিতে বিক্রি হওয়া উচিত বলে মনে করেন।

বদরগঞ্জের শ্যামপুরের আম চাষি সামছুজ্জামান বলেন, এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার হাঁড়িভাঙা আমের অন ইয়ার। প্রচুর ফলন হয়েছে। কৃষক ভালো দাম পাবেন।’

saju

Recent Posts

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র…

14 hours ago

অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার…

14 hours ago

ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরে ডুবে আরাবি হোসেন (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সে…

14 hours ago

অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

14 hours ago

প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ

প্রাণ গ্রুপ তাদের কাটিং (নিট পোশাক) বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। আগ্রহী যোগ্য…

14 hours ago

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের সাতজনসহ মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন…

14 hours ago

This website uses cookies.