দাম্পত্য জীবনে ক্ষমতার লড়াই এড়িয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানের সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুন্দর রূপক হলো স্বামীকে ‘রাজা’ বানিয়ে নিজে ‘রাণী’ হওয়া। এটি কোনো অন্ধ আনুগত্য বা নিজের অধিকার ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং স্বামীর ইতিবাচক গুণগুলোকে সামনে এনে সংসারে তাঁর ভূমিকা বাড়িয়ে তোলা। একজন বিচক্ষণ স্ত্রী স্বামীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হন না, বরং তাঁর অর্জনকে পরিবারের সাফল্য হিসেবে দেখেন। একইভাবে, একজন ভালো স্বামীও যখন স্ত্রীর স্বপ্ন, মতামত, পরিশ্রম ও আত্মসম্মানকে মূল্যায়ন করেন, তখন সম্পর্কটি একতরফা থাকে না, বরং তা দুজনের যৌথ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
মানসিকভাবে একে অপরকে শক্তি দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি লংগিটিউডিনাল (longitudinal) গবেষণায় গবেষক রেবেকা এল. ব্রক (Rebecca L. Brock), এরিকা লরেন্স (Erika Lawrence) এবং তাঁদের সহকর্মীরা ১০১টি নবদম্পতিকে তিন বছর ধরে চার দফায় পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা যায়, পর্যাপ্ত দাম্পত্য সহায়তা, বিশেষ করে স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন দাম্পত্য সন্তুষ্টি ধরে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দাম্পত্য জীবনে শুধু সাহায্য করাই যথেষ্ট নয়, বরং কখন কীভাবে পাশে দাঁড়াতে হবে তা বুঝতে পারাই আসল বুদ্ধিমত্তা। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া-এর (University of Iowa) এরিকা লরেন্স ও তাঁর সহযোগীরা ২৭৫টি বিবাহিত দম্পতিকে নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। ‘পার্সোনাল রিলেশনশিপস’ (Personal Relationships) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায়, সঙ্গীকে ঠিক কতখানি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে সেই সহায়তা কতটা উপযুক্ত এবং প্রয়োজনমাফিক ছিল, তা দাম্পত্য সন্তুষ্টির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। অর্থাৎ, সঠিক সময়ে সঠিক পাশে দাঁড়ানোই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়।
একজন বুদ্ধিমতী নারী স্বামীর প্রতিটি সিদ্ধান্তে অন্ধভাবে মাথা নত করেন না। তিনি ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শান্তভাবে নিজের আপত্তি জানান এবং ভালো সিদ্ধান্তের সময় আন্তরিকভাবে পাশে থাকেন। ২০১৪ সালে জেফরি বি. জ্যাকসন (Jeffrey B. Jackson) ও তাঁর সহকর্মীরা ২২৬টি স্বাধীন নমুনা এবং মোট ১,০১,১১০ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে একটি মেটা-অ্যানালাইসিস (meta-analysis) সম্পন্ন করেন। ‘জার্নাল অব ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি’ (Journal of Marriage and Family)-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে স্বামী ও স্ত্রীর দাম্পত্য সন্তুষ্টির পার্থক্য খুবই সামান্য। এর অর্থ হলো, দাম্পত্য সুখ কেবল কোনো একজন অংশীদারের একক আচরণের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি একটি যৌথ প্রক্রিয়া।
সংসার পরিচালনায় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। স্বামীর ভুল নিয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে অভিযোগ করা, সবার সামনে তাঁকে ছোট করা কিংবা অন্যের সঙ্গে তুলনা করা সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। ২০১৫ সালে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব নার্সিং-এর (Johns Hopkins University School of Nursing) নোয়েল এম. সেন্ট ভিল (Noelle M. St. Vil) ‘জার্নাল অব ফ্যামিলি সোশ্যাল ওয়ার্ক’ (Journal of Family Social Work)-এ একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। এই গবেষণায় পারস্পরিক সহায়তা, আবেগগত সমর্থন এবং দাম্পত্য সন্তুষ্টির সম্পর্ক বিশ্লেষণের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তবে দাম্পত্য বুদ্ধিমত্তা মানে কোনো অন্যায়, নির্যাতন বা অসম্মানকে মুখ বুজে সহ্য করা নয়। প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা হলো কোথায় স্বামীকে উৎসাহ দিতে হবে, কোথায় নিজের মত দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং কোথায় দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা সঠিকভাবে বুঝতে পারা।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো…
বরিশালের বাকেরগঞ্জে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে নৃত্যের আয়োজন করায় এলাকাজুড়ে সমালোচনার…
উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চলে যাওয়ার ঘটনায়…
কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম…
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণ অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া সব ফেডারেশনের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া…
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে দরগাপাশা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া মিনা বাজারস্থ আল-হেরা একাডেমিতে মাহবুবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা…
This website uses cookies.