Header Premium (728×90)

লাইফস্টাইল

পীরগাছায় হাতপাখা তৈরি করে দারিদ্র্যকে জয়

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:

হাতপাখা তৈরি করে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৫টি গ্রামের হতদরিদ্র নারীরা দারিদ্র্যকে জয় করেছেন।প্রযুক্তির এই যুগে প্রাণ জুড়াতে এসেছে নানা ধরনের বৈদ্যুতিক পাখা। তবে এগুলো চাহিদা কমাতে পারেনি হাতপাখার।

ওই ৫টি গ্রামের অন্তত দেড় হাজার গৃহবধূ দাঁড়িয়েছেন নিজের পায়ে। সংসারে এনেছেন সুখ–স্বাচ্ছন্দ্য। হাতপাখা তৈরি করে বেশ কাটছে তাঁদের দিন। উপজেলা সদরের ইটাকুমারী ইউনিয়নের হাড়িয়াপাড়া, কামদেব, কালীগঞ্জ, আটানী ও কালিয়াপাড়া গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িতে চকচক করছে টিনের চালা। খড়ের কুঁড়েঘর নেই বললেই চলে। গ্রামগুলোর নারীরা ঘরের কাজ সামলাতে সামলাতে, বিশ্রাম নিতে নিতে তৈরি করছেন হাতপাখা। উঠানে ও গাছতলায় জটলা করে চলছে পাখা তৈরির কাজ।

গ্রাম ৫টির প্রায় ৮০০ পরিবারের সবাই জড়িয়ে আছেন পাখা তৈরির সঙ্গে। কেউ পাখা তৈরির কারিগর, কেউবা ব্যবসায়ী। চৈত্র মাস আসার আগে থেকেই এ গ্রামেগুলোর দৃশ্যপট বদলে যায়। সব বাড়িতে দেখা যায় এক দৃশ্য। ঘরে, উঠানে, বাড়ির সামনে বসে নানা বয়সী নারী ও মেয়েরা ব্যস্ত থাকেন পাখা বানানো নিয়ে।

কালীগঞ্জ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এক বাড়ির উঠানে বিভিন্ন বয়সী ২০-২৫ জন নারী ব্যস্ত পাখা তৈরিতে। সেখানে কথা হয় ময়না খাতুনের সঙ্গে। এটি তাঁর শ্বশুরবাড়ি। তিনি বলেন, তাঁর শাশুড়ি, ননদ ও ভাশুরের মেয়ে পাখা বানিয়ে বিক্রি করেন। গ্রামের কয়েকজন নারীও তাঁদের সঙ্গে কাজ করেন।

কালীগঞ্জ গ্রামের মঞ্জিলা খাতুনের বিয়ে হয় ১৫ বছর বয়সে। আগে ভূমিহীন স্বামীর আয়ে সংসার চলত না। দুই সন্তানকে নিয়ে প্রায়ই উপোস থাকতে হতো। এখন পাখা তৈরির আয়ের টাকায় সংসার চলছে, স্বামীর আয় জমা থাকছে। ১৯ শতক জমি কিনেছেন, খড়ের ঘরের জায়গায় তুলেছেন টিনের ঘর, আছে হাঁস-মুরগি, গাভি-ছাগল।

হাড়িয়াপাড়া গ্রামের আয়েশা বেগম জানান, ভিটেমাটি ছাড়া তাঁর কিছুই ছিল না। এখন টিনের বাড়ি, ৩২ শতক নিজের জমি আছে। গাছগাছালি ঘেরা বাড়িতে হাঁস–মুরগি, গাভি, ছাগল পালন ও পাখা তৈরি করে মাসে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন।

আটানী গ্রামের স্বামীহারা রশিদা বেগমের অভাব-অনটনের সংসারে আয়ের পথ খুলে দিয়েছে হাতপাখা তৈরির কাজ। ৫-৬ বছর ধরে হাতপাখা তৈরির কাজ করছেন তিনি। এ আয়ের টাকায় ২১ শতক জমি, টিনের ঘর করেছেন। মাছ চাষের জন্য খনন করেছেন পুকুর। ৬টি ছাগল, দুটি গাভিও পালন করছেন। সব মিলিয়ে এখন তাঁর মাসে আয় ২৫ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, ওই গ্রামগুলোর নারীরা হাতপাখা তৈরি করে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন।

জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, ‘ওই গ্রামগুলোর নারীদের কর্মকাণ্ড আমি স্বচক্ষে দেখেছি। তাঁরা হাতপাখা তৈরি করে এখন স্বাবলম্বী।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইটাকুমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সুজন ইসলাম জানান, ওই ৫টি গ্রামে পাখা তৈরির কাজ এখন ১টি শিল্পে পরিণত হয়েছে। নারীরা পাখা তৈরি করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তাঁরা তাঁদের জীবনমানের উন্নতি করতে পেরেছেন।

saju

Recent Posts

সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন ম্যাক অ্যালিস্টার

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।…

4 minutes ago

নিট প্রশ্নফাঁস: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলছে সিজেপি

ভারতের নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে চলমান আন্দোলনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি…

6 minutes ago

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনর্লিখনের উদ্যোগ ঢাবি প্রশাসনের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনরায় রং করা ও পুনর্লিখনের…

7 minutes ago

মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সের বার্তা

 বন্দর প্রতিনিধি বন্দর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদকসহ সকল ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা…

16 minutes ago

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২৭ আগস্ট

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন…

19 minutes ago

ভৈরবে জানাজায় উসকানিমূলক স্লোগান: স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে নবী হোসেন নামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ…

23 minutes ago

This website uses cookies.