Header Premium (728×90)

প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও ইসলাম: গুরুত্ব ও দায়বদ্ধতার স্বরূপ

আরবি ভাষায় প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার বোঝাতে ‘আহদুন’ ও ‘ওয়াদুন’ শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়। লিখিত বা মৌখিক যেকোনো ধরনের বোঝাপড়াই এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে এই ছোট শব্দটির গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কেবল সামাজিক আচরণের অংশ নয়, বরং কিয়ামতের দিন প্রতিটি প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাইলের ৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি পালন করার জন্য, কারণ এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আল্লাহ নিজেও তাঁর সৃষ্টির সাথে অঙ্গীকারের সম্পর্ক বজায় রাখেন। রুহ সৃষ্টির পর আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে তাঁকে রব হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন এবং বিনিময়ে তিনিও মানুষের জন্য অঙ্গীকার করেছেন। সুরা ইবরাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলে আল্লাহ নিয়ামত বাড়িয়ে দেবেন। আবার সুরা বাকারার ৪০ নম্বর আয়াতে বনি ইসরাইলদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, তারা যেন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তাহলে আল্লাহও তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করবেন। সুতরাং প্রতিশ্রুতি রক্ষা কোনো একতরফা বিষয় নয়, বরং এটি সম্পর্কের একটি মৌলিক ভিত্তি।

ইসলামে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকে সাধারণ কোনো ভুল হিসেবে দেখা হয় না, বরং একে মোনাফেকি বা কপটতার একটি লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। সহিহ বুখারি (৩৩) ও সহিহ মুসলিমের (৫৯) হাদিসে নবীজি (সা.) মোনাফেকের তিনটি লক্ষণের কথা বলেছেন, যার মধ্যে একটি হলো ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা। একে চরিত্রের একটি কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়। প্রতিশ্রুতি ও কসম তুচ্ছমূল্যে বিক্রিকারীদের জন্য পরকালে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সুরা আলে-ইমরানের ৭৭ নম্বর আয়াতে। সেখানে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেনও না। এছাড়া কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাতের জন্য মিথ্যা কসম করলে আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৬৯)।

প্রতিশ্রুতি রক্ষার ক্ষেত্রে সামর্থ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অঙ্গীকার করার আগেই তা পূরণের সক্ষমতা আছে কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। যদি কোনো কারণে কথা রাখা সম্ভব না হয়, তবে চুপ না থেকে সরাসরি অপারগতার কথা জানিয়ে দেওয়া উচিত। সুনান আবু দাউদের (৪৯৯১) একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমির (রা.)-এর মা তাঁকে কিছু দেওয়ার কথা বললে নবীজি (সা.) জানতে চেয়েছিলেন তিনি কী দিতে চেয়েছেন। মা খেজুর দেওয়ার কথা বললে নবীজি (সা.) জানান, যদি তিনি কিছু না দেওয়ার ইচ্ছা করতেন, তবে তা মিথ্যা হিসেবে গণ্য হতো। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ইসলামে প্রতিশ্রুতির পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং সামান্য প্রতিশ্রুতিও সমান গুরুত্বের সাথে বিচার্য। কথা একবার দিয়ে ফেললে তা রক্ষা করাই একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় জন্ম নেয়া ফাতেমার চতুর্থ জন্মদিন পালন

২০২২ সালের ১৬ জুলাই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জন্ম নেয়া শিশু ফাতেমার চতুর্থ জন্মদিন ও তার…

14 minutes ago

ডিএনসিসির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার প্রস্তাব

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি…

29 minutes ago

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল, তবে পূর্ণতা পেতে আরও কাজ বাকি: বক্তারা

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান…

43 minutes ago

শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে এখনো অঝোরে কাঁদেন মা মনোয়ারা বেগম

জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম আজও ছেলের কবরের পাশে গিয়ে কাঁদেন।…

1 hour ago

২০২৮ ইউরো পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কোচ থাকছেন টমাস টুখেল

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ের পরও ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হিসেবে টমাস টুখেলের ওপর আস্থা…

1 hour ago

নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে তিন বছরের জন্য নৌবাহিনীর…

2 hours ago

This website uses cookies.