Header Premium (728×90)

আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় আঘাত: পিল্লাই

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ওপর এক নজিরবিহীন আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাই। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে তার ঐতিহ্যবাহী ভূমিকায় পুনরায় ফিরে আসা উচিত।

মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের হেগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৮৫ বছর বয়সী পিল্লাই বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য নেতৃত্ব দেওয়া এবং মুক্তির পথ দেখানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত শুক্রবার তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ঘোষণা আসে এবং তার কয়েক ঘণ্টা পরই ওয়াশিংটন আইসিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

পিল্লাই বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময়কে কাকতালীয় বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। তার মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নজিরবিহীন। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর হেগে ফিরে তিনি আদালতের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যারা আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন এবং যারা নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্তের সিদ্ধান্তের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াকে 'ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মিথ্যা প্রচারণা' হিসেবে অভিহিত করেন। পিল্লাইয়ের মতে, এই প্রচারণা এবং আইসিসির ওপর চাপ প্রয়োগ—উভয়ই আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

নিজের নোবেল প্রাপ্তি প্রসঙ্গে পিল্লাই জানান, ১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ২১তম নারী হিসেবে তিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন, যা নারীদের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যের গভীরতাকে নির্দেশ করে। ১৯৯০-এর দশকে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক থাকাকালীন তাঁর অংশগ্রহণে একটি বেঞ্চ ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল, যেখানে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। তিনি মনে করেন, যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলোতে এখনো যৌন সহিংসতার বিচার পর্যাপ্ত নয়। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি যুদ্ধের সময় যৌন সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

Recent Posts

রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট কমাতে ছয়টি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত…

7 minutes ago

নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান নিহত

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে…

30 minutes ago

রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ২০ হামলায় নিহত ১৭

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ অক্টোবরের পর থেকে ২০ বার হামলা…

47 minutes ago

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ শিশু ও শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের একটি প্রাথমিক স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ঘটনায়…

1 hour ago

ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি ৩.১%, এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২১.৩ শতাংশ

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সে বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল…

1 hour ago

আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে

বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় রাজস্ব আহরণ…

2 hours ago

This website uses cookies.