রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকিতে বর্তমানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় চলছে। শহরটিতে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মাইন ও ড্রোন হামলার কারণে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শহরটি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বেসামরিক মানুষ সেখানে আটকা পড়ে আছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন শিশু রয়েছে।
শহরটির বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা বিভিন্ন বার্তা থেকে সেখানে খাদ্য সংকটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। অনেক পরিবার ঘরে থাকা শেষ সম্বল দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা বিট, আলু, পেঁয়াজ, জুচিনি, টমেটো ও বার্লির মতো সাধারণ উপকরণ দিয়ে বোর্শ রান্না করে কোনোমতে বেঁচে আছেন। কেউ কেউ পুরোনো শুকনো পাস্তা, বাড়ির আশপাশের সবজি বা ভোজ্য আগাছা খেয়ে জীবন ধারণ করছেন। শহরের নির্বাসিত মেয়র তেতিয়ানা হাসানেঙ্কো জানান, আটা, মাংস, তেল, চিনি ও লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
ডিনিপার নদীর তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই রুশ বাহিনী দখল করে নেয়। ওই বছরের নভেম্বরে ইউক্রেনীয় বাহিনী খেরসন পুনর্দখল করার পর রুশ সেনারা নদীর ওপারে ওলেশকিতে অবস্থান শক্তিশালী করে এবং শহরটি যুদ্ধের সম্মুখসারির একটি এলাকায় পরিণত হয়। বর্তমানে রাস্তায় মাইন এবং নিয়মিত ড্রোন হামলার কারণে সড়কপথে কোনো ধরনের সহায়তা পৌঁছানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে খাদ্য সহায়তা নিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি মাইনে বিস্ফোরিত হয়ে হতাহতের ঘটনার পর সড়কপথের সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
শহরের নাগরিক অবকাঠামোও প্রায় ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বিদ্যুৎ, গ্যাস, প্রবাহমান পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নেই। এমনকি রাস্তায় পড়ে থাকা মরদেহ সরানোর মতো ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না; অনাহারে থাকা কুকুর প্রায়ই মরদেহের কাছে চলে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের ফলে সৃষ্ট বন্যায় শহরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে বাসিন্দারা এক প্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এই সংকটের দায় নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রুশ বাহিনী বেসামরিকদের শহর ছাড়তে দিচ্ছে না এবং খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টাকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রতি বেসামরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনীয় পক্ষের দাবি, মানবিক সহায়তা ড্রোনের আগুনের মধ্য দিয়ে পৌঁছাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ক্রেমলিন নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে ওলেশকিতে একটি ‘গুরুতর মানবিক বিপর্যয়’ থাকার কথা স্বীকার করলেও এর জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীই মানুষকে শহর থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে এবং খাদ্য ও পানীয় জল সরবরাহে ড্রোন ব্যবহার করে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে স্থলপথে সাহায্য পৌঁছানো অসম্ভব হওয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে খাদ্য ও ওষুধ পাঠানোর চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ইউক্রেনীয় বাহিনী আবারও ড্রোন ব্যবহার করে শহরে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে মানবিক করিডোর তৈরি না হওয়ায় ওলেশকির অবশিষ্ট বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাসায়নিক অণুর দর্পণ প্রতিবিম্ব ও অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাপানের কেনসো সোয়াই ও…
যুক্তরাজ্যে সমকামী সেজে ভুয়া নথিপত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আশ্রয় আবেদন করার অভিযোগে অন্তত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে…
জামালপুরের মাদারগঞ্জের কাশফিয়া জান্নাত কুহু আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬ এর প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ…
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় বেতন কাঠামো, ২০২৬ কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে…
জয়পুরহাটের ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রিপোর্ট দেখানোর সময় এক স্বজনকে চিকিৎসক ও তাঁর সহযোগীরা মারধর…
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি সফর করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার…
This website uses cookies.