ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করতে উপকূলীয় এলাকায় অগ্রসর হওয়া অথবা বিভিন্ন দিক থেকে একযোগে হামলা চালানোর মতো বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছে রিয়াদ। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তুতির বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই স্থল অভিযানে নেতৃত্ব দেবেন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সেনারা। পুরো প্রক্রিয়াটির তদারকি করবে রিয়াদ এবং সৌদি বিমান বাহিনী আকাশপথ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো, গত মাসে হুতিদের আকস্মিক অগ্রযাত্রার মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য নস্যাৎ করে দেওয়া। ওই সময় হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূল ধরে এগিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছিল।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের এই সম্ভাব্য অভিযানকে সফল করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। এছাড়া আঞ্চলিক ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ মূলত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে। তবে এসব মিত্রদেশ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সৌদি আরব তখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে একটি আরব জোট গঠন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং হুতিরা সৌদির জাহাজ ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইয়েমেনের কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযানের জন্য মূলত দুটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রথমটি হলো বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের এলাকায় একটি সীমিত পরিসরে হামলা চালানো। আর দ্বিতীয় বিকল্পটি হলো আরও বড় পরিসরে ইয়েমেনের একাধিক প্রদেশ যেমন— আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফে একযোগে সমন্বিত হামলা চালানো। অভিযানের পরিধির ওপর ভিত্তি করে এতে এক লাখেরও বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে সৌদি ও ইয়েমেন সরকার, হুতি গোষ্ঠী কিংবা মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মানদেব প্রণালিটি এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে জাহাজ চলাচলের অন্যতম প্রধান রুট। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এই বিকল্প নৌপথের গুরুত্ব এখন অনেক বেশি। পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, প্রণালিটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে নতুন কোনো শান্তি আলোচনা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সৌদি নেতারা। অভিযানের সুনির্দিষ্ট সময় জানা না গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কিংবা নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এটি শুরু হতে পারে। সৌদি আরবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি মনে করেন, এই অভিযানটি ২০১৫ সালের তুলনায় বেশ ছোট এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে। তাঁর মতে, হুতিদের পুরোপুরি পরাজিত করার চেয়ে বাব আল-মানদেবের উপকূলীয় এলাকা পুনরুদ্ধার করে সমুদ্রপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনাই হবে এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা এবং এর জেরে গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা শুরুর পর অঞ্চলটি সংঘাতে জর্জরিত হয়ে আছে।
২০২৭ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য ‘অল-ইনক্লুসিভ’ বা সমন্বিত প্যাকেজ…
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটিতে দ্রুত সামরিক বাহিনী মোতায়েন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা…
নিউজিল্যান্ড ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার নতুন যোগ্যতা ও তালিকা প্রকাশ করেছে।…
যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় ফুল ফান্ডেড চিভনিং স্কলারশিপের জন্য ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আবেদন চলছে। আগ্রহী পেশাজীবীরা ৬ অক্টোবর…
খুলনার রূপসায় আকতার ঢালী নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দেড় মাস আগে…
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসনিক গতিশীলতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মহাব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের ১০ কর্মকর্তার…
This website uses cookies.