ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ তীব্র মতবিরোধ এবং ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটির এই স্বায়ত্তশাসিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলেও, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এর বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের গভীর ফাটলের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর আপত্তি উপেক্ষা করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ১০ মাসে এই দুই কমিশনার অন্তত ১৪ বার কমিশনের নানা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন, যা আমলে নেওয়া হয়নি। এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিরোধী দলগুলো এখন vote ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হয়েছে।
গত বছরের জুন মাস থেকে ভারতজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া (এসআইআর) চলছে। এই কার্যক্রমের আওতায় ইতিমধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার কারণে দরিদ্র, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নিজেদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার প্রমাণ করতে পুরোনো জন্ম নথি, জমির দলিল কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে। নথিপত্রের সামান্য বানান ভুল বা তথ্যের অমিল থাকলেই নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, এর মাধ্যমে যোগ্য নাগরিককে ভোটার করার চিরাচরিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বটি এখন উল্টো ভোটারদের ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ভারতের দীর্ঘদিনের নির্বাচনি ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
অবশ্য ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং এই সংশোধন প্রক্রিয়ার সমর্থকরা দাবি করছেন, মৃত, ভুয়া এবং অবৈধ অভিবাসী ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশোধনের এই প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। যেমন, গোয়ায় ভুলবশত বাদ পড়া প্রায় ১০০ ভোটারের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্থানীয় কর্মকর্তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ইসিআইনেট’-এর মাধ্যমে দিল্লির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বারবার যোগাযোগ করলেও সময়মতো কোনো সাড়া পাননি। এই ঘটনা কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বচ্ছতার অভাবকে ফুটিয়ে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে এই প্রতিষ্ঠানের সংস্কার দাবি করেছেন। বিরোধীদের আশঙ্কা, সুপরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচন কমিশন এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের অভিযোগের জবাবে জানিয়েছে, তিন কমিশনারের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার এই সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বিশ্লেষক মিলান বৈষ্ণবের মতে, বর্তমান সংশোধন পদ্ধতি ভারতের দীর্ঘদিনের সেই মৌলিক নীতিকেই বদলে দিচ্ছে, যেখানে যোগ্য নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে গণ্য হতো। বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন ভারতের নাগরিক স্বাধীনতা বা নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, এখন সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো নির্বাচনি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই বড় সংকটের মুখে পড়েছে।
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৫৮আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ১৩
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সাত বছরের এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ…
অর্থকষ্টে একসময় দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন অঞ্জলি আনন্দ। কিন্তু করণ জোহরের ‘রকি অউর…
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিনেতা ও কবি রিফাত চৌধুরী। চিকিৎসার অর্থ…
হরমুজ প্রণালিতে ইরান তার ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার বা বাড়াবাড়ি করছে বলে মন্তব্য করেছেন পেন্টাগনের আরব…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিট পুলিশিং অফিসের সামনেই কয়েকশ লোক নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের চেষ্টা…
গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দাপ্তরিক…
This website uses cookies.