Header Premium (728×90)

ব্রিকস সম্মেলন: ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈঠক ও নতুন বিশ্বব্যবস্থার বার্তা

বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানরা এই সপ্তাহান্তে দিল্লির একটি বিশাল গোলাকার টেবিল ঘিরে মিলিত হয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে উপস্থিত নেতাদের সামনে আহ্বান জানান যে, তাদের কেবল ‘নিয়মের অনুসারী’ নয়, বরং ভবিষ্যতে ‘নিয়ম নির্ধারণকারী’ হয়ে উঠতে হবে। এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

এই দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও সামরিক সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। ২০২০ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হয়েছিল। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এমন বৈরী সম্পর্কের দেশগুলোকে এক টেবিলে আনা ভারতের বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি দেশগুলোকে পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ করে দিয়েছে।

নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের প্রভাব হ্রাস করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জোটটিকে দেখে। তবে ভারত এটিকে পশ্চিমাবিরোধী জোট হিসেবে তুলে ধরতে অনিচ্ছুক। মোদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই জোট ‘কারও বিরুদ্ধে নয়’।

সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন থাকা সত্ত্বেও তারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ঘোষণাপত্রে ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো উল্লেখ নেই, যা আগের সম্মেলনগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ প্রসঙ্গে ঘোষণাপত্রে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বেসামরিক অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা করা হয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করা হয়নি। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সম্মেলনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের মুখোমুখি বৈঠক। ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক। তেহরানের জন্য এই সম্মেলন বিশ্বমঞ্চে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে। নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সত্ত্বেও ইরান ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার ওপর জোর দিয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সাত বছর পর দিল্লিতে সফর করেছেন। ২০২০ সালের সীমান্ত বিরোধের পর দুই দেশের মধ্যে অনাস্থা থাকলেও, এবারের সফরে ব্যবসা ও বাণিজ্যের বাধা দূর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। যদিও সি চিন পিংয়ের সফর ছিল ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের এবং তিনি মোদির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেননি। সর্বোপরি, এই সম্মেলন প্রমাণ করেছে যে ব্রিকস পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

শিবগঞ্জে বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচলেন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, পাশে ইউএনও

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সহায়তা চেয়েছেন…

26 minutes ago

‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ মন্তব্য করা ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।…

54 minutes ago

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পোর্টালে এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশ, তীব্র উদ্বেগ

গত জুনে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সরকারি একটি স্বাস্থ্য ডেটা পোর্টালে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে…

1 hour ago

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ নতুন রোগী

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন…

2 hours ago

এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর

এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান।…

2 hours ago

ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর…

3 hours ago

This website uses cookies.