Header Premium (728×90)

জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে কেন বারবার হামলা চালাচ্ছে ইরান

জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেস, যা আল-আজরাক ঘাঁটি নামে পরিচিত, দেশটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। বর্তমানে এখানে প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিকবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার, প্রস্তুতি কেন্দ্র এবং বিমান মোতায়েন এলাকা। তবে জর্ডান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে ১৮টিই প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আল-আজরাক ঘাঁটি একটি অপরিহার্য সামরিক ও লজিস্টিক কেন্দ্র। এখান থেকে যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান এবং নজরদারি ব্যবস্থা পরিচালনা করা সহজ হয়। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামরিক অভিযানে জর্ডানের এই বিমানঘাঁটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় ইরান থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে হওয়ায় জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রকে এক ধরনের কৌশলগত সুবিধা দেয়, যা মার্কিন সম্পদগুলোকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে কিছুটা সুরক্ষিত রাখে।

২০২১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানের ১২টি সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার লাভ করে। তবে আল-আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন উপস্থিতি অবশ্য আরও আগে থেকেই ছিল; ২০১৬ সালের স্যাটেলাইট ছবিতে সেখানে মার্কিন ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান বারবার জর্ডানের এই ঘাঁটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এর আগের কয়েকটি হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান, হ্যাঙ্গার ও কমান্ডকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এমনকি চলতি বছরের জুলাই মাসের এক হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথাও মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ইরান এই ঘাঁটিটিকে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্টের সঙ্গে থাকছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের জমজমাট লড়াই

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিনের পাশাপাশি আজ ইউরোপিয়ান ফুটবলের একাধিক বড় ম্যাচ…

21 minutes ago

পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে বহু ভবন

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত…

26 minutes ago

৮ হাজার লবণচাষি মাঠে নামার অপেক্ষায়, শঙ্কায় ন্যায্যমূল্য

চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ার প্রায় ৮ হাজার লবণচাষি আগামী সপ্তাহে মাঠে নামার অপেক্ষায় দিন…

1 hour ago

ইরান যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছে জনগণ, ট্রাম্পকে দুষলেন ডেমোক্র্যাটরা

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম বাড়ায় মার্কিন জনগণের ভোগান্তির জন্য ট্রাম্পকে দুষলেন ডেমোক্র্যাটরা। রাশিয়ার…

1 hour ago

চাপ অব্যাহত থাকলে মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত: রাহুল গান্ধী

ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে রাহুল গান্ধী বলেছেন, চলমান আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত…

2 hours ago

১১ বছর ধরে বন্ধ এমআরআই, দিনাজপুর মেডিকেলে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তীব্র জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা এবং ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগীর…

2 hours ago

This website uses cookies.