চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল প্রত্যাশিত ভারত সফর দুই বৃহৎ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শি জিনপিং নয়াদিল্লিতে উপস্থিত থাকবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার সফর নিশ্চিত করেনি। এছাড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হবে কি না, তাও এখনো অস্পষ্ট। এই সম্ভাব্য বৈঠক দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
১৯৬২ সালের স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধের পর থেকেই চীন ও ভারতের সম্পর্কে অবিশ্বাস ও সতর্কতার মনোভাব বজায় রয়েছে। ২০২০ সালে সীমান্তে সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় এই সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, বিশেষ করে গত বছর মোদির চীন সফর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উভয় দেশেরই অস্থির সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক অগ্রগতির তুলনায় দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে। দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিভিন্ন বাধার মুখে রয়েছে, যার মধ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধের কারণে বিনিয়োগ আটকে থাকা, ভিসা পেতে বিলম্ব এবং শিল্প সরঞ্জাম আমদানিতে বিধিনিষেধ অন্যতম। সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং নয়াদিল্লিতে চীনা দূতাবাসের সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াং বলেন, চীন সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী হলেও ভারত আসলে কতটা প্রস্তুত, সেটিই দেখার বিষয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আপাতত বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ পান্তের মতে, দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এখনো অনেক বেশি। তিনি মনে করেন, চীনের সামনে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে যখন উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির প্রভাবের মুখে পড়ছে।
ভারত সরকার অবশ্য ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর চীনা বিনিয়োগের ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধ মার্চ মাসে শিথিল করেছে। ইলেকট্রনিকস, মূলধনি পণ্য এবং সৌরকোষ খাতকে এই শিথিলতার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া কিছু শিল্পে যৌথ উদ্যোগের অনুমোদন দ্রুত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। এর মধ্যে ভারতের ডিক্সন টেকনোলজিস এবং চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা ভিভো মোবাইলের মধ্যে একটি উৎপাদন উদ্যোগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও বিওয়াইডি এবং গ্রেট ওয়াল মোটরের মতো শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিগুলোর ভারতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা এখনো স্থগিত রয়েছে।
বর্তমানে ভারতে চীনা কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বেইজিংয়ের কাছ থেকেও বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়ছে, বিশেষ করে উন্নত উৎপাদন ও উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, শি ও মোদি মনে করেন দেশ দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার এবং একে অপরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ। তবে অন্যদিকে, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভারত আলিপে’র মতো প্ল্যাটফর্মের প্রস্তাব আটকে দিয়েছে এবং শাওমি’র বিরুদ্ধেও এসএফআইও-এর মাধ্যমে তদন্তের সুপারিশ বিবেচনা করছে। শাওমি অবশ্য সব স্থানীয় আইন মেনে চলার দাবি করেছে এবং জানিয়েছে যে এসএফআইও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ভারতের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ন্যাটোর এক বা একাধিক সদস্যদেশে রাশিয়া ‘সীমিত’ হামলা চালাতে পারে বলে…
নাগোয়া এশিয়ান গেমসে উশুর সান্দা ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন বাংলাদেশের জিন্নাত আক্তার। এর মাধ্যমে ১৯৮৬…
অভিনয়ের ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে দীপা খন্দকার নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। বর্তমানে বয়স ও জীবনের…
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও…
রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ককে হকারমুক্ত…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে উঠলে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা…
This website uses cookies.