ইউক্রেনকে বৃটিশ-ফরাসি স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন নকশা সরবরাহ করার পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে বৃটেনের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২০২৩ সালে ক্রাইমিয়ায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রাশিয়ার ২২ কোটি পাউন্ড মূল্যের এবং ৩ হাজার ১০০ টন ওজনের ‘রোস্তভ-অন-ডন’ সাবমেরিন ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে সামরিক সক্ষমতার এক নিখুঁত প্রদর্শন হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। রাশিয়ার সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই ফেদোরভ সতর্ক করেছেন যে, বৃটেন ‘অজ্ঞাত উৎস’ থেকে একটি ‘আধা-সামরিক জবাবের’ মুখোমুখি হতে পারে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, ইউক্রেনকে বৃটেনের অব্যাহত সমর্থনের কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে বৃটেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া এখন প্রায় অনিবার্য। ওই সূত্রটি প্রশ্ন তুলেছে, ভালুক কামড় দেয়ার আগে আমরা আর কতক্ষণ তাকে খোঁচাতে থাকব? রাশিয়ার কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে বার্তা দেয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা ড্রোন হামলা বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা হিসেবে সামনে আসতে পারে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, বৃটেনে রাশিয়ার নিষ্ক্রিয় গুপ্ত নেটওয়ার্ক রয়েছে যারা এ ধরনের নাশকতায় অংশ নিতে পারে। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অভিযোগ করেছেন যে, বৃটেন পরিকল্পিত ও নিয়মিতভাবে আগুনে ঘি ঢালছে এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি ঠেকানোর ষড়যন্ত্র করছে। এর বিপরীতে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম তার অবস্থানে অনড় থেকে রাশিয়ার আগ্রাসী ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। গত মাসে লন্ডনে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়ার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি স্পষ্ট হয়েছে। ২৪শে আগস্ট ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে কিয়েভে গিয়ে বার্নহাম ইউক্রেনীয় সেনাদের সামনে গিটার বাজিয়ে দ্য স্মিথসের গান ‘রাশহোম রাফিয়ানস’ পরিবেশন করেন।
পরদিন প্রায় ৬০০ মাইল দূরে মস্কোতে সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ মার্কিন বিমানবাহিনীর গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমানে করে অবতরণ করেন। তিনি পুতিনের জন্য কঠোর বার্তা নিয়ে গিয়েছিলেন—ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতে হামলা করবেন না। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাশিয়া আগামী কয়েক বছরে ন্যাটো জোটের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে সীমিত স্থল অভিযান বা বড় ধরনের সাইবার হামলা চালাতে পারে। এমআই৬-এর প্রধান ব্লেইজ মেট্রেভেলি বর্তমান পরিস্থিতিকে শান্তি ও যুদ্ধের মাঝামাঝি ‘গ্রে জোন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া জিসিএইচকিউ-এর প্রধান অ্যান কিস্ট-বাটলারও ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
তবে সাবেক এমপি বব সিলি মনে করেন, স্টর্ম শ্যাডোর নকশা নিয়ে বিরোধ কেবল উত্তেজনা বাড়ানোর একটি অজুহাত মাত্র। তার মতে, পুতিন বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় বৃটেনকে নিজের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে এই পরিস্থিতি তৈরি করছেন। তিনি মনে করেন, রাশিয়া বৃটেনের বিরুদ্ধে এমন ‘গ্রে জোন’ হামলা চালাতে পারে, যা ন্যাটোর আর্টিকেল ৫ সক্রিয় করার মতো পর্যায়ে যাবে না।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প…
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা…
২৮ হাজার ৮০০ টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার মামলায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা।…
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য মুখ্য…
আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে ব্রাজিলের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের…
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে এবং এর…
This website uses cookies.