Header Premium (728×90)

নেপাল-চীন সীমান্তে নতুন হ্রদ, ফের বড় বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্ক

হিমবাহধসের দুই দিন পর নেপাল ও তিব্বতের কিছু এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। হিমবাহধসের ফলে সৃষ্ট একটি নতুন হ্রদ থেকে গত শুক্রবার পানি উপচে পড়তে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধারকাজও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। হিমবাহধস ও পরবর্তী পাহাড়ি ঢলে এখন পর্যন্ত ৬২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ এবং এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দুর্যোগের ফলে দুটি নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হিমবাহের কাছাকাছি উঁচু এলাকায় অবস্থিত, যেখানে হিমবাহ গলা পানি আটকে আছে। দ্বিতীয় হ্রদটি আকারে বড় এবং অধিক বিপজ্জনক, যা নেপালের লেন্দে নদী ব্যবস্থার অন্তর্গত ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংগমস্থলের কাছে ভূমিধসের কারণে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে তৈরি হয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, হ্রদটির পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে, ফলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে ভাটির দিকে ধ্বংসাত্মক ঢল নামতে পারে।

রাসুয়া জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে বলে তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, হ্রদটিতে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে এবং আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি সেখানে যুক্ত হতে পারে। এই পানির পরিমাণ অলিম্পিক আকারের প্রায় ১ হাজার ২০০টি সুইমিংপুলের সমান। চীনের পক্ষ থেকে আট সদস্যের একটি প্রকৌশলী দল পাঠানো হয়েছে, যারা আকাশপথে জরিপ চালিয়ে হ্রদটির ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরির কাজ করবে।

ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পবন ভট্টরাই সতর্ক করেছেন যে, বিপদ শুধু হ্রদটিকে ঘিরে নয়, বরং আলগা পাথর ও কাদার তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এমনটি ঘটলে ভাটির দিকের জনপদগুলো সতর্ক হওয়ার জন্য খুব সামান্য সময় পাবে। গবেষক নীতেশ খাডকা জানিয়েছেন, এই হ্রদগুলো অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে সেখানে পৌঁছানো উদ্ধারকর্মীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।

এদিকে, বন্যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছয়টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আটজন স্বাস্থ্যকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাসুয়া জেলায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরে তা পুনরায় শুরু হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, নতুন হ্রদের পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

লালমোহনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সচেতনতামূলক প্রচারণা

ভোলার লালমোহনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ…

10 minutes ago

যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে গ্রেপ্তার ৫

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ৫…

20 minutes ago

শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা পাঁচদিনের ছুটি, শনিবার খোলা ব্যাংক

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই…

39 minutes ago

সরকারি বাসা বরাদ্দ এখন অনলাইনে, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ

সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা সহজ ও স্বচ্ছ করতে অনলাইন পদ্ধতি চালু করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত…

56 minutes ago

সৌদি আরবের অধিকাংশ আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ‘অনিরাপদ’: হুথি মুখপাত্র

সৌদি আরবের বেশিরভাগ আকাশসীমা ও বিমানবন্দরকে 'অনিরাপদ' হিসেবে চিহ্নিত করে বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে ইয়েমেনের…

57 minutes ago

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত সাজেক

রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর আরোপিত অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র…

60 minutes ago

This website uses cookies.