Header Premium (728×90)

বিশ্বের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ, নেপথ্যে ৪ কারণ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সারা বিশ্বই ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তবে অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় ইউরোপের তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি প্রায় দ্বিগুণ। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসারণ ক্রমাগত বাড়ছে, যা অতিরিক্ত তাপকে আটকে ফেলছে। এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

বর্তমানে ইউরোপের তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি, যা বৈশ্বিক গড় উষ্ণায়নের হারের তুলনায় দ্বিগুণ। বিজ্ঞানীদের মতে, ইউরোপের এই দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠার পেছনে মূলত চারটি প্রধান কারণ সক্রিয় রয়েছে। এগুলো হলো—আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন, উত্তর মেরু বা আর্কটিকের ভৌগোলিক নৈকট্য, তুষার আচ্ছাদন ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়া এবং বায়ুদূষণ হ্রাস পাওয়া।

ইউরোপের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহের ধরন বদলে যাওয়ার কারণে গ্রীষ্মকালে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ঘটনা বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ সালের জুন মাসে একটি শক্তিশালী 'হিট ডোম'-এর প্রভাবে ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জেট স্ট্রিমসহ বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের এই নিবিড় সম্পর্ক দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা আর্কটিক অঞ্চলের প্রভাবকে দেখছেন। পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণায়নশীল অঞ্চল হলো আর্কটিক। ইউরোপ ভৌগোলিকভাবে আর্কটিকের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইউরোপের ওপর।

তুষার আচ্ছাদন কমে যাওয়াও ইউরোপের তাপমাত্রা বাড়ার অন্যতম বড় কারণ। সাধারণত তুষার সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে ভূপৃষ্ঠকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তুষার গলে যাওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ইউরোপের তুষার আচ্ছাদন দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে প্রায় ১৩ লাখ বর্গকিলোমিটার কম ছিল।

চতুর্থ কারণটি হলো বায়ুদূষণ কমে যাওয়া। যদিও বায়ুদূষণ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তবে বাতাসে ভেসে থাকা দূষিত কণাগুলো সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এক ধরনের শীতল পরিবেশ তৈরি করত। ইউরোপে বায়ুদূষণ কমে যাওয়ার ফলে সেই শীতলীকরণ প্রভাবও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকা তাপ আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি যে এই চার কারণের কোনটির ভূমিকা ঠিক কতটা দায়ী। তবে এই দ্রুত উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপে মৃত্যু, দাবানল, খরা, অতিবৃষ্টি এবং বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্বন নিঃসারণ কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর এবং তাপপ্রবাহ থেকে মানুষকে রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের জলবায়ুপ্রধান সাইমন স্টিয়েল।

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১: ২৯আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৪৭

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী সাবেক এমপির বাসা থেকে গ্রেপ্তার

রাজধানীর উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাশকতার…

5 minutes ago

জলপথে আসাম থেকে ঢাকায় আসছে ১ হাজার ৮০ টন মিথানল

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে আসামের ডিব্রুগড় থেকে সরাসরি বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের নতুন…

6 minutes ago

আরএফএল গ্রুপে ট্রেইনি জোনাল ম্যানেজার পদে ১০০ জনের নিয়োগ

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপ ‘ট্রেইনি জোনাল ম্যানেজার’ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে। স্নাতক বা…

13 minutes ago

মধ্যরাতে ঢাকার ৬ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান সরেজমিনে দেখতে সোমবার মধ্যরাতে ঢাকার ছয়টি ছাপাখানায় ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন…

19 minutes ago

শুল্ক কমাতে একমত যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক কমানোর বিষয়ে একমত…

26 minutes ago

এক রাতেই সব হারিয়েছেন রবার্তো কার্লোস, জানালেন ভুল থেকে শেখার গল্প

ফুটবল ক্যারিয়ারে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা আয় করেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস। কিন্তু…

37 minutes ago

This website uses cookies.