Header Premium (728×90)

বিশেষ প্রতিবেদন

আমজাদ হাটে সম্পত্তির জন্য ছেলের ছুরির কাঘাতে বাবার অবস্থা আশংকা জনক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলা আমজাদ হাট ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে সম্পত্তির জের ধরে ছেলে বাবার উপরে আক্রমণের অভিযোগ।

সূত্রে জানা যায়, আমজাদ হাট ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে মোঃ তোফাজ্জল হোসেন (৭৫) সাথে ছোট ছেলে জাবেদ আলী (৩২) ও বড় ছেলে মোঃ হানিফ (৪৫) এর মধ্যে জায়গা সম্পত্তি টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে, এতে ছেলের ছুরির আক্রমণের শিকার হয় বাবা তোফাজ্জল হোসেন (৭৫) মা খোদেজা বেগম (৭০) বাবা মা দুজনে আহত হয়েছেন।

২৪ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় তোফাজ্জল হোসেন মাগরিবের নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বাহির হয়ে বাড়ী দিকে যাবে হঠাৎ করে ছোট ছেলে জাবেদ মসজিদ গেইট সামনে এসে বাবা তোফাজ্জল হোসেন উপরে আক্রমণ করে, কিল, লাতি,চর থাপ্পড় এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, ছুরির আঘাত ও মারধর করতে করতে আমজাদ হাট বাজারের উওর পাশে কামাল মেম্বার দোকান পর্যন্ত নিয়ে আসেন, পরে সেখানে থাকা গ্রাম পুলিশ ও কামাল মেম্বার সহ স্থানীয় লোকজন তোফাজ্জল হোসেনকে উদ্ধার করে, তোফাজ্জল হোসেন তখন গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, পরে স্থানীয়রা তার মেজু ছেলে সাঈদুল হক সাঈদ কে খবর পাঠালে সাঈদ ঘটনাস্থলে আসেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে ফুলগাজী উপজেলা মুন্সিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল পাঠান, তোফাজ্জল হোসেন অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার কারণে তাকে মুন্সিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

২৪ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষ করে বাড়ীতে আসেন তোফাজ্জল হোসেন দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে, হঠাৎ ছোট ছেলে জাবেদ ও বড় ছেলে হানিফ বাবা কাছে সম্পত্তি ও টাকা পয়সার ভাগ চায়, এতে করে বাবা তোফাজ্জল হোসেন সম্পত্তি ও টাকা পয়সা ভাগ দিতে অস্বীকার করলে ছোট ছেলে জাবেদ রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে দা-বটি নিয়ে, ঘর, ঘরের দরজা জানালা ও আসবাবপত্র ভাংতে শুরু করে।

তোফাজ্জল হোসেন রাগী কন্ঠে বলেন, সবাই আমার বাড়ী থেকে বাহির হয়ে যাও কেউ আমার বাড়ীতে থাকার প্রয়োজন নেই, তোফাজ্জল হোসেন ছোট ছেলে জাবেদকে বলেন তুই সবসময় নেশা করে বাড়ীতে এসে মাস্তানী করো ঘর-বাড়ী জিনিস পএ নষ্ট করিস, যেমন ঘরে তেমন বাহিরে নেশা করে মাস্তানী কর তোর জন্য আমার মান সন্মান শেষ হয়ে গেলো, আমি এলাকায় মাথা নিচু করে থাকতে হয় তোমার জন্য।

ছেলের সাথে বকাঝকা করা অবস্থায় আসরের নামাজের আজান দেয় তখন তোফাজ্জল হোসেন বাড়ী থেকে বাহির হয়ে বাজারে চলে যায়, তখন তোফাজ্জল হোসেন বড় ছেলে হানিফ জাবেদকে উস্কানি মূলক কথা বলে খেপিয়ে দিলে, জাবেদ তখন আবার রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে দা-বটি নিয়ে ঘর, ঘরের দরজা জানালা ও আসবাবপত্র ভাংতে শুরু করে, তখন জাবেদ এর মা খোদেজা বেগম বাধা দেয়, তখন জাবেদ হানিফ এর উপস্থিতি মা খোদেজা বেগম উপর হামলা করেন, বলেন আমার ভাগে জায়গা সম্পত্তি ও টাকা পয়সা ভাগ করে দাও, তখন জাবেদ এর মা খোদেজা বেগম বলেন, তোর বাবা তো বলেছে সে জীবিত থাকা অবস্থায় কোন সম্পত্তির ভাগ হবে না, এ কথা বলতে জাবেদ ক্ষিপ্ত হয়ে মা খোদেজা বেগম উপর হামলা করেন, এবং বলেন তোকে বাচিয়ে রাখবো না তোর স্বামীকে ও বাচিয়ে রাখবোনা, খোদেজা বেগমকে আহত করে বাড়ী থেকে বাহির হয়ে যায় জাবেদ, তোফাজ্জল হোসেন খুঁজে বাহির করে মেরে ফেলবে বলে।

স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, বড় ছেলে হানিফ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে ছিলেন, বড় ছেলে হানিফের উস্কানিতে জায়গা সম্পত্তির টাকা পয়সা ভাগ চায় জাবেদ।

জাবেদ পেশায় ১ জন মাদক সেবনকারী, কোন কাজকর্ম করে না, প্রায় বাবা মায়ের সাথে ঝগড়া ঝামেলা করেন মাদকের টাকার জন্য, এতে বাবা-মা জাবেদকে অনেক নিষেধ করেন, এ মাদক খাওয়া ছেড়ে দিতে ভাল নাহলে কোন জায়গা সম্পত্তি টাকা পয়সা দেবে না এবং ভাগ হবেনা, তোফাজ্জল হোসেন মাগরিবের নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বাহির হয়, তখন ছোট জাবেদ বাবার উপরে হামলা করেন।

তোফাজ্জল হোসেন একসময় আমজাদ হাট বাজারে ১টি মসজিদের মোয়াজ্জেম ছিলেন, ছেলে জাবেদকে বলে আমার ১টা সন্মান আছে, এলাকা মানুষ আমাকে ইজ্জত করে সন্মান করে, তুমি মাদক সেবন করে রাস্তা ঘাটে মাতলামি করে ঝামেলা করো এতে আমি এলাকায় অনেক ছোট হই আমাকে অনেক তোমার নামে অভিযোগ করে, তুমি নেশা করা বন্ধ কর আমার সন্মান নষ্ট করো না, আমি তোমাকে কোন টাকা দিতে পারবো না, এই নিয়ে প্রায় ঝামেলা হত।

শুক্রবার বাবা ছেলে মধ্যে দুপুরে কথা কাটাকাটি হয়, বিকালে আবার হানিফ এর উস্কানিতে জাবেদ মাথা গরম করে দেয়, সন্ধ্যায় জাবেদ আমজাদ হাট মসজিদ গেইট বাবা উপরে আঘাত করে, এতে বাবা তোফাজ্জল হোসেন এর অবস্থা খারাপ, একটি নজিরবিহীন ঘটনা শেষ পযন্ত ছেলে এর হাতে বাবা খুন হতেই হবে জায়গা সম্পদের জন্য।

আহতর তোফাজ্জল হোসেন মেজু ছেলে সাঈদ জানান, আমার বাবা সহজ-সরল একজন মানুষ তিনি আমজাদ হাট বাজারের মসজিদে মোয়াজ্জেম হিসেবে দীর্ঘদিন ছিলেন, আমার বাবার আমজাদ হাট বাজারে ও আমাদের গ্রামে বাবার একটা সন্মান আছে, সে সন্মান আমার ছোট ভাই জাবেদ এর কারনে নষ্ট হচ্ছে, জাবেদ সবসময় মাদক সেবন করে, এতে আমার বাবা-মা অনেক বুঝায়, কিন্তু জাবেদ কোন কথা শুনতে রাজি নয়, পরে আমার বাবা-মা কঠোর ভাবে বাধা দেন এবং বাড়ী থেকে বাহির হয়ে যেতে বলেন, কিন্তু জাবেদ কথা মানতে রাজি নয়, বলে আমার সম্পত্তি ও টাকা পয়সা আমাকে বুঝিয়ে দাও না হলে আমি তোমাদেরকে খুন করে ফেলবো, এই হচ্ছে আমার বড় ভাই হানিফ এর উসকানিতে জাবেদ এত সাহস পায়।

সাঈদ আরো জানান, ২৪ এপ্রিল শুক্রবার আমার বাবা তোফাজ্জল হোসেন জুমার নামাজ শেষ করে বাড়ীতে আসেন, এসে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিশ্রাম করতে বসেন এ সময় বড় ভাই হানিফ এর কথায় ছোট ভাই জাবেদ বাবার কাছে গিয়ে সম্পত্তি ও টাকা পয়সার ভাগ চায় আমার বাবা বলে যে দিন তুমি মাদক সেবন ও খারাপ পথ ছাড়বে ভাল হবে, সেদিন আমি দেখবো তার আগে নয় আর আমি সম্পত্তি ও টাকা পয়সা ভাগ করে কাউকে দেবো না, আমার বাবা সম্পত্তি ও টাকা পয়সা ভাগ করে দেবেনা বলে আসরের নামাজ পড়তে চলে যায়, আমার মা জাবেদ কে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে, মা বলেন, তুই যদি খারাপ পথ না ছেড়ে দিস তাহলে তোর বাবা জায়গা সম্পত্তি টাকা পয়সা কিছুই দেবেনা, এই জায়গা সম্পত্তি টাকা পয়সা দিতে অস্বীকার করলে তৎক্ষণিক জাবেদ ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর-বাড়ির টিন দা-বটি দিয়ে কোপাতে থাকে, তখন আমার মা বাধা দিতে যায়, তখনি আমার ছোট ভাই জাবেদ মায়ের উপরে আক্রমণ করেন, আমার বড় ভাই হানিফ কোন বাধা দেয় নাই জাবেদ কে, শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাছে, সন্ধ্যায় আমার বাবা মাগরিবের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বাহির হলে মসজিদ গেইট থেকে বাবাকে কলার ধরে টেনে মারতে শুরু করে তার সাথে চুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে, আমার বাবাকে মসজিদের গেইট থেকে মারতে মারতে বাজারের উওর পাশে কামাল মেম্বার দোকানের সামনে নিয়ে আসে সেখানে থাকা গ্রাম পুলিশ কামাল মেম্বার সহ স্থানীয় লোকজন আমার বাবাকে উদ্ধার করেন, তখন আমার অবস্থা খুবই গুরুতর অবস্থা ততখানিই আমাকে খবর দেন, তাদের সহযোগিতায় আমি এসে আমার কাছে আহত অবস্থা ফুলগাজী উপজেলা মুন্সীর হাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু আমার বাবা অবস্থা এতটাই খারাপ উপজেলা মুন্সীর হাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি না রেখে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান, আমার বাবার অবস্থা এখনো ভালো না, এখন আমার বাবা ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

ফেনী সদর হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার বলেছেন, আমার বাবা অবস্থা তেমন ভাল নয়, খুবই আশঙ্কা জনক আমার বাবাকে যে কোন সময় ঢাকা চট্টগ্রাম উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে হবে।

সাঈদ বলেন, আমি থানায় করেছি, আমার বাবার উপরে আমার ছোট ভাই জাবেদ আক্রমণ করেছে সম্পত্তির জন্য এবং মেরে ফেলতে চেয়েছে তার সাথে জড়িত রয়েছে আমার বড় ভাই হানিফ, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হক তাদের কে আইনের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এটা পারিবারিক ঝামেলা তোফাজ্জল হোসেন থানার অভিযোগ করেছেন, আমরা অভিযোগে ভিত্তিতে জাবেদ কে গ্রেফতার করেছি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

saju

Recent Posts

শনিআখড়া লাইফ হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

ফখরুল আলম সাজু রাজধানী ঢাকা শনিআখড়া এলাকায় লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় ১ নবজাতকের…

2 hours ago

জাহান্নামের আগুন ৩ হাজার বছর জলার পর শেষ পর্যায়ের কালো ও অন্ধকার

  🤲🤲 জাহান্নামের অগ্নিশিখা ১ দিন আসবে, ঐ দিনটা কোন দিন হবে আপনাদের জানা আছে?…

2 hours ago

কিশোরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা

মোঃ পলাশ সালমান, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ জেলা মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত সমাজ…

3 hours ago

রংপুরে ডিবি’র অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবা, ৩০০ গ্রাম গাঁজা সহ মাদক বিক্রয়ের নগদ-৩৬৬৫০ টাকা উদ্ধার, ০১ জন মাদক কারবারি আটক

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর। রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার…

3 hours ago

দিনাজপুর ইয়াবা সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ফখরুল আলম সাজু দিনাজপুর জেলা বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নে ২ মাদক ব্যবসায়ী কে ৯৪ পিস…

6 hours ago

ফায়েম হত্যার মূল আসামি হারুন গ্রেফতার সেনবাগে পুলিশের সাথে আরও ৭ জন গ্রেফতার

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা, নিজস্ব প্রতিনিধি: নোয়াখালী জেলা সেনবাগে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আরাফাত ফায়েম হত্যা…

6 hours ago

This website uses cookies.