Header Premium (728×90)

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ টুথপেস্টে মিলছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

দেশে বর্তমানে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে থাকা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে—অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশে—মাইক্রোপ্লাস্টিক বিদ্যমান। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী পরিচালিত হয়। এতে ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসডোর তথ্যমতে, গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি নমুনার মধ্যে বাকি ৮টিতে (২৩.৫%) কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এসব টুথপেস্ট বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টি নমুনারই দুটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব মিলেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (৬৬.৭%) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এসব শিশুর টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত কণা পাওয়া গেছে। কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে এসব কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না, যা ভোক্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

গবেষণার অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৪১.৯ শতাংশ মানুষ জানতেনই না যে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে।

এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ জানান, এই গবেষণার লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে দায়ী করা নয়, বরং বাংলাদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে জাতীয় মানদণ্ড ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করা। এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্পষ্ট উল্লেখ ও কার্যকর তদারকির ওপর জোর দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক দাঁতের এনামেলের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর উপ-পরিচালক মো. মনজুরুল করিম জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি আমলে নিয়েছেন এবং দ্রুতই অনুমোদিত উপাদানের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সহনশীল মাত্রা যুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন। পরিবেশ অধিদপ্তরও এই গবেষণার ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে উল্টো দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: আনু মুহাম্মদ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে জনগণের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে উল্টো দিকে যাত্রার এক ভয়াবহ…

7 minutes ago

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চুরি: ২২ কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ মূল্যবান সরঞ্জাম খোয়া

সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ১৪ই জুন এবং ২৩শে…

9 minutes ago

ইউরোপার বরফের নিচে পৃথিবীর সব মহাসাগরের দ্বিগুণ পানি

নাসার জুনো মহাকাশযানের তথ্য বলছে, বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপার বরফের নিচে থাকা লবণাক্ত মহাসাগরে পৃথিবীর সব…

25 minutes ago

ডিপজলের বিরুদ্ধে খালাতো ভাইয়ের মানহানির মামলা, তদন্তে ডিবি

চলচ্চিত্র অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন তার আপন খালাতো ভাই ও এ…

37 minutes ago

ভারতের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের নতুন ও কার্যকর প্রভাব

ভারতের যন্তর মন্তরে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে চলা আন্দোলন দেশটির প্রথাগত রাজনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা বদলে দিচ্ছে।…

39 minutes ago

আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ

আসছে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট…

55 minutes ago

This website uses cookies.