Header Premium (728×90)

Categories: শিক্ষা

স্নাতক ডিগ্রি নিয়েও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী প্রাথমিক শিক্ষকরা

স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এখনো তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। প্রশিক্ষণ না থাকলে তারা ১৪তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলে ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। অথচ সরকারি বিভিন্ন চাকরিতে স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পদ সাধারণত উচ্চতর গ্রেডে নির্ধারিত হয়। এই ব্যবধান নিয়ে দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে বলে শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো : পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছরের অঙ্গীকার’। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হলেও প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও বেতন নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের একটি অংশ ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেল উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, সরকারি অন্য যেসব পদে স্নাতক বা সমমানের যোগ্যতা চাওয়া হয়, সেসব পদে ১০ম গ্রেড দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও একজন মেধাবী শিক্ষার্থী যদি তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদার পদে যোগ দেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। তার মতে, এ কারণে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

শিক্ষকদের পদমর্যাদার পাশাপাশি পেশাগত প্রশিক্ষণেও দেশে বড় ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে ছিলেন। মাদরাসা শিক্ষায় প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার আরও কম। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা বাড়াতে শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পদমর্যাদা ও বেতন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আগেই পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষক সনদ অর্জনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত শিক্ষক নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের সুযোগ আসে। ফলে নিয়োগ ও পেশাগত প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ শিক্ষককে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রশিক্ষণ শিক্ষকতার ফাউন্ডেশন কোর্সের বিকল্প নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

ভৈরবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের হাতে ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন…

3 minutes ago

মাদক থেকে তরুণদের রক্ষায় সামাজিক প্রতিরোধের ডাক মন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষায় পরিবার…

12 minutes ago

নিউইয়র্কে প্রথমবার বসছে মুসলিম নির্মাতাদের চলচ্চিত্র উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলিম নির্মাতাদের বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসব ‘নিউইয়র্ক মুসলিম ফিল্ম…

22 minutes ago

গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরের চাপ কমাতে চায় সরকার

শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার, জানিয়েছেন…

25 minutes ago

২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী ২০২৭ সালের রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেছে। তবে…

28 minutes ago

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জি-৭ দেশগুলোর জরুরি মজুত থেকে তেল ও ডিজেল ছাড়ার…

39 minutes ago

This website uses cookies.