Header Premium (728×90)

Categories: শিক্ষা

রংপুরে দুই সরকারি বিদ্যালয়ের নির্মাণে চার বছরের বিলম্ব, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

রংপুরে নতুন দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) এই প্রকল্পটি পাস হয়। নগরীর উত্তম মৌজার হাজীপাড়া পুরোনো রেডিও সেন্টার এবং কামাল কাছনা মৌজার বোতলায় বিদ্যালয় দুটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

২০২১ সালের আগস্টে ভূমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের মার্চে এসএসএল-এসই-এমএ জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। একই বছরের ২৩ আগস্ট থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রতিটি ১০ তলা ভবনবিশিষ্ট বিদ্যালয় নির্মাণে ২৩ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ৪৩২ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ৩৬ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছর পেরিয়ে গেলেও তা সম্পন্ন হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো রেডিও সেন্টার এলাকার বিদ্যালয়ের মূল ভবনসহ অবকাঠামোগত কাজ এখনো অসমাপ্ত। ভবনের প্লাস্টার, রঙ ও জানালার গ্রিল লাগানোর কাজ বাকি রয়েছে। বোতলাপাড়ার বিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও রঙ ও আনুষঙ্গিক কাজ বাকি আছে।

স্থানীয় অভিভাবক আইরিন আক্তার বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বেসরকারি স্কুলে পড়ানো কষ্টসাধ্য। রংপুরে সরকারি স্কুল কম হওয়ায় আসন সংকট প্রকট। তিনি দ্রুত বিদ্যালয় দুটি চালু করার দাবি জানান। এছাড়া মেডিকেল মোড় জেলগেট এলাকার বাসিন্দা হামিদা আফরোজ এবং রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও একই দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্কুল দুটি চালু হলে আসন সংকট অনেকটাই দূর হতো, কিন্তু বিলম্বের কারণে আগামী শিক্ষাবর্ষেও ভর্তি কার্যক্রম অনিশ্চিত।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদ জানিয়েছেন, যথাযথভাবে কাজ করলে এটি শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে। রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন কাজের বিলম্বের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মালামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং কারিগরি জটিলতার কারণে সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

রতীশ চন্দ্র সেন আরও জানান, বোতলাপাড়ার স্কুলটি আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা রয়েছে। তবে অপরটির কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর লাগতে পারে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সময় বাড়লেও প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বাড়বে না। ভবন হস্তান্তর পর্যন্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্ব থাকলেও, শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

Recent Posts

মঠবাড়িয়ায় গরুর ব্যবসার বিরোধে ব্যবসায়ীকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গরুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আওয়াল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি ও…

8 minutes ago

এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার

দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বাজারে কোনো সংকট নেই। কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে মজুতদারি করার চেষ্টা…

14 minutes ago

আদাবরে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে চাপাতি ও রামদা হাতে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে…

44 minutes ago

কুষ্টিয়ায় পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত, সীমান্তে বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। এছাড়া একই দিনে মাদক…

52 minutes ago

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই: দীনেশ ত্রিবেদী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার…

54 minutes ago

ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেননি, দাবি ট্রাম্পের

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া বা জব্দ অর্থ ছাড়ের কোনো প্রস্তাব দেওয়ার খবর অস্বীকার…

55 minutes ago

This website uses cookies.