Header Premium (728×90)

ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতে নিজস্ব সংস্কার কৌশলে এগোচ্ছে সরকার

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাংকিং, রাজস্বসহ আর্থিক খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নিজস্ব সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এসব সংস্কার বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহযোগিতা চাওয়া হবে। তবে এগুলো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং দেশের সমস্যাগুলো নিজেরাই চিহ্নিত করে নির্বাচনি ইশতেহার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টার পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।

ড. তিতুমীর জানান, সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, দেশীয়ভাবে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং বিশ্বব্যাংকের ম্যান্ডেটের সঙ্গে জনগণের ম্যান্ডেটের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রেও সরকার বহুমুখী উৎস ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। বৈদেশিক ঋণের পাশাপাশি কনসেশনাল ও নন-কনসেশনাল ঋণ, স্থানীয় বন্ড, সুকুক বন্ড এবং ওয়েজ আর্নার স্কিমকে অর্থায়নের উৎস হিসেবে কাজে লাগানো হবে।

সরকার গঠনের সময় অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থার কথা উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তখন প্রধান তিনটি সূচক ছিল—ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ হ্রাস, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আয় মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসা এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানোকে সংস্কারের প্রথম লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পাঁচটি ব্যাংক ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অনিশ্চয়তা দূর করে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ উত্তোলনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগের সরকারের সময় খেলাপি ঋণ ১১ শতাংশ দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ছিল ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। এখন ব্যাংক পরিচালনায় সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবিরতা কাটাতে অর্থ ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ে ৭ শতাংশ প্রণোদনামূলক সুদে একটি উদ্ভাবনী পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং স্কিম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বন্ধ কলকারখানা সচল ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজারকে সচল করা এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও নারী উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। ড. তিতুমীর আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এখন স্থিতিশীল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে সুদের হার কমানোর আশা করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে জিডিপি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

ইইউ-চীন বাণিজ্য আলোচনা শুরু: ঘাটতি ও বিধিনিষেধ নিয়ে বাড়ছে চাপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি, বিরল খনিজ রপ্তানি…

2 minutes ago

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৫২৮, মামলা ৫৩

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে রাজধানী থেকে ৫২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা…

5 minutes ago

গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে ঢাকা ও দিল্লি

গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে ঢাকা ও দিল্লি যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন…

6 minutes ago

স্কুলের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার…

11 minutes ago

বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দ্বিগুণের বেশি বাড়ল

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) প্রভাবে দেশটিতে আমদানি হু হু…

14 minutes ago

৪ বছরে দেশে নতুন দরিদ্র ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে সোয়া ৬ কোটি মানুষ

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত চার বছরে দেশে ৮০ লাখ মানুষ নতুন…

17 minutes ago

This website uses cookies.