দেশের রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশ সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ছক তৈরি করেছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনাময় পণ্য, রপ্তানি বাজারের সার্বিক চিত্র এবং রপ্তানি বৃদ্ধির বাধাগুলো বিশ্লেষণ করে ১৮টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে।
নতুন এই উদ্যোগের আওতায় একটি সমন্বিত রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি দেশের জন্য তৈরি করা হবে বাজারভিত্তিক আলাদা আলাদা রপ্তানি কৌশলপত্র। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে, এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত হবে এবং রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যেখানে বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্মা খাতের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজেদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
তৈরি পোশাকের বাইরে এসব বাজারে নতুন যেসব পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ওষুধ, ফার্নিচার, খেলনা, বাইসাইকেল, রেফ্রিজারেটর, ফুটওয়্যার, চা, ফলমূল, সবজি, ইলেকট্রনিক্স, চামড়াজাত পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হালাল খাদ্য, উচ্চমূল্যের পোশাক, হিমায়িত বা তাজা মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিকস এবং প্লাস্টিক পণ্য।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে কর্মরত ইকোনমিক মিনিস্টার ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সম্ভাবনাময় পণ্য, বাজার পরিস্থিতি, রপ্তানির বাধা এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বাজারগুলোতে কেবল নতুন পণ্যের প্রসারই নয়, বরং চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, ইতালি, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও জার্মানির মতো বড় প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, চীন এই ১৮টি দেশের সবকটিতেই বড় পরিসরে রপ্তানি করে। এছাড়া ভিয়েতনাম ১৪টি, ভারত ১১টি, ইতালি ৮টি, তুরস্ক ৭টি, ইন্দোনেশিয়া ৬টি এবং কম্বোডিয়া ও জার্মানি ৫টি গন্তব্যে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে রয়েছে।
এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এজন্য অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), সেপা (CEPA), বন্দরে সক্ষমতা বৃদ্ধি, শুল্ক চুক্তি এবং মানদণ্ড পূরণে সার্টিফিকেশনের ঘাটতি দূর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী চামড়া শিল্পের পরিবেশগত মানদণ্ড সনদ, রাসায়নিকের REACH সনদ, মার্কিন এফডিএ (FDA), যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ (MHRA), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি (GMP) অনুমোদন, ইরানের মান ও শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সনদ এবং হালাল সনদ গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সিন্থেটিক ও টেকনিক্যাল পোশাক, উন্নত চামড়াজাত পণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রাপ্তি, প্রত্যাশা…
এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা.…
হেগভিত্তিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক…
রাজধানীর মিরপুরে অনুষ্ঠিত ক্লাব কাপ ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছে সাতক্ষীরা তায়কোয়ানডো ক্লাব।…
সরকারি কর্মকর্তাদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত থাকলেও মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাসের ওপর আয়কর…
পুরান ঢাকার জনসন রোডের ব্যস্ত এলাকায় পাখিদের জন্য এক অনন্য আশ্রয়স্থল ‘আকাশনীড়’ গড়ে তুলেছে ঢাকা…
This website uses cookies.