দেশের ভোজ্য তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আরও এক দফা বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। মিলগেট থেকে সরবরাহ সংকুচিত করায় ডিলার পর্যায়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিন তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অথচ চলতি মাসের শুরুতেই অর্থাৎ ২রা সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছিল ভোজ্য তেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। ওই মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ২০৪ টাকা। এর আগে প্রায় দুই মাস বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কম থাকলেও দাম বাড়ার পর পরিস্থিতি কিছুদিনের জন্য স্বাভাবিক হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবারও সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকায়, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি। অর্থাৎ সরকারের নতুন কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অসাধু চক্র বাজারে বাড়তি দাম আদায় করছে। রাজধানীর বেশির ভাগ মুদি দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে এই দুই আকারের বোতলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ২০ কার্টনের অর্ডার দিলে ডিলাররা মাত্র ২ থেকে ৪ কার্টন সরবরাহ করছেন। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো নতুন করে দাম বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ডিলারদের পক্ষ থেকেও তাদের জানানো হয়েছে যে কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়াতে চায়।
এর আগে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয়ের অজুহাতে গত ১১ই জুলাই ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো। সে সময় তারা প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ১০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৮৮ টাকা করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে খোলা পাম তেলের দামও লিটারে ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সরকারের সঙ্গে একদফা বৈঠক অমীমাংসিত থাকার পর অবশেষে ২রা সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীদের দাবি আংশিক মেনে বোতলজাত সয়াবিন লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে কাঙ্ক্ষিত ১০ টাকা বৃদ্ধি না পাওয়ায় কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাওরান বাজারের একজন ডিলার জানান, কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় তারা খুচরা বিক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের সূত্র দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারপ্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনের সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র ৪-৫টি বড় কোম্পানি। বাকি অংশ ছোট কোম্পানিগুলো সরবরাহ করে। এই বড় কোম্পানিগুলো আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে এবং বাড়তি মুনাফার উদ্দেশ্যে ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। তারা সরকারকে চাপে ফেলে ও ভোক্তাদের জিম্মি করে বারবার দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অবশ্য দাম সমন্বয়ের দিন অর্থাৎ ২রা সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান দাবি করেছিলেন যে, বাজারে বর্তমানে ভোজ্য তেলের কোনো সংকট নেই এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার দাম সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকায়। যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি। অর্থাৎ সরকার নতুন করে মূল্য নির্ধারণ না করলেও অসাধু চক্র বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করছে। রাজধানীর বাজারে কিছু মুদি দোকানে এক ও দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ দোকানে কম পাওয়া যাচ্ছে না। মুদি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে এক ও দুই লিটারের সয়াবিনের চাহিদা বেশি। ২০ কার্টন অর্ডার দিলে ডিলাররা ২-৪ কার্টন দেয়। কৌশলে তারা আগের মতো দাম বাড়ানোর জন্য সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্রেতারা বলেন, বাজারে কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে কোম্পানিগুলো। তারা সয়াবিন তেলের দাম আরও কিছুটা বাড়াতে চায় বলে ডিলাররা তাদের জানিয়েছেন।
কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বাকি ১০-১৫ শতাংশ অন্য ছোট কোম্পানি সরবরাহ করে। ওইসব বড় কোম্পানি দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে। বাড়তি মুনাফা করতে তারা বছরের একেক সময় তাদের ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। সরকারকে চাপে ফেলে সাধারণ ভোক্তাকে জিম্মি করে মূল্য বাড়িয়ে নেয়। গত কয়েক বছর একই পন্থায় ওই চক্র সরকারকে চাপে ফেলে মূল্য বাড়িয়ে নিয়েছে। তবুও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে ৫-১০ টাকা বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় যোগ দিয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফেডারেল…
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়া অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনে ফিলিস্তিনিদের রক্ত ও…
রাখি বন্ধনের বিজ্ঞাপনের পোশাক নিয়ে সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইনস্টাগ্রামের একটি লাইক ঘিরে…
ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ…
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় গত আট মাসে ১৩টি হত্যা ও ২৪টি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে। একই…
ওয়েম্বলিতে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নেশনস লিগে শুভসূচনা করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। কেইনের…
This website uses cookies.