দেশের চা খাতের অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চা শিল্পকে কেবল ঋণের ওপর নির্ভরশীল না রেখে রাজস্ব, কর ও ভ্যাটের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়মিত অবদান রাখার মতো একটি কার্যকর শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা শিল্পের সঙ্গে বিশাল সংখ্যক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা জড়িত রয়েছে। কোনো বাগান বন্ধ বা দেউলিয়া হয়ে পড়লে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শ্রমিক পরিবার ও স্থানীয় সমাজের ওপর। তাই শ্রমিকদের নিরাপত্তা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে এই খাতকে টেকসই ও লাভজনক করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, একসময় বাংলাদেশ চা রপ্তানি করলেও উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশ আবার আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চলমান সংকট কাটিয়ে চা শিল্পকে আবার শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
উক্ত সভায় চা বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে অনাবাদি ও অব্যবহৃত জমিতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন, কৃষি ও বিকল্প বনায়ন এবং ক্লাস্টার বা নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে আয়ের নতুন পথ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথা সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তারা জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে চা প্রবেশ এবং নিলামের বাইরে সরাসরি বিক্রির কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। এর ফলে সরকারও বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। নিলামে প্রতি কেজি চায়ের দাম ২৯০-৩০০ (290-300) টাকা হলেও চোরাই চা বাজারে ২০০-২২০ (200-220) টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর যৌক্তিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, শুধু সরকারি প্রণোদনা, আবর্তন তহবিল বা ঋণের ওপর নির্ভর না করে চা বাগানগুলোর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাগানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবীর আহামদ, বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মাঈনুদ্দিন হাসানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল…
ভোলার চরফ্যাশনে ইমামতির পাশাপাশি গত তিন দশক ধরে সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে চলেছেন…
বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ বাতিলের চিঠির পর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।…
সিরাজগঞ্জ শহরের পৌর ভাসানী মিলনায়তনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪০০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে…
আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের পর আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা সূত্রের…
বাংলাদেশ পুলিশের ১৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।…
This website uses cookies.