দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মূলধন ঘাটতির চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশের ৬১টি ব্যাংকের সার্বিক নিট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর প্রান্তিকে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে নিট মূলধন ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাতের এই নাজুক পরিস্থিতির প্রধান কারণ হলো ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে উচ্চহারে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়, যা ব্যাংকের মুনাফা কমিয়ে দেয় এবং মূলধন ভিত্তিকে দুর্বল করে ফেলে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, খেলাপি ঋণ বাড়লে প্রভিশন সংরক্ষণের চাপে মুনাফা কমে যায় এবং লোকসান হলে মূলধন ঘাটতি আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা, যা জুন শেষে বেড়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আগ্রাসী ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদনের ফলে ব্যাংক খাতের এই দীর্ঘমেয়াদী অবনতি হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেন, মূলধন ঘাটতি আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে এবং একটি ব্যাংকের দুর্বলতা পুরো খাতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের ক্যাপিটাল-টু-রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) কমে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এটি ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থাকা বাঞ্ছনীয়।
এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আলম খান জানান, প্রয়োজনীয় মূলধন ও সিআরএআর বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে লভ্যাংশ ও প্রণোদনা বোনাসে নিষেধাজ্ঞা, আমানতকারীদের আস্থা হ্রাস এবং অর্থায়ন ব্যয় বৃদ্ধির মতো নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যার ঘাটতির পরিমাণ ৬৬ হাজার ২৬৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৩১ হাজার ৬৮৭ কোটি ১৭ লাখ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩০ হাজার ৯৩৬ কোটি ৬৭ লাখ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৩০ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৬ লাখ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৩০ হাজার ৩০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে। তালিকায় থাকা অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।
গত ডিসেম্বর শেষে এ ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৮ হাজার ৩৫৪ কোটি ৯০ লাখ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৬ হাজার ২৯৭ কোটি ৬১ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১১ হাজার ৯৮৪ কোটি ৯৮ লাখ, এবি ব্যাংকের ৮ হাজার ৪৮৭ কোটি ৫৯ লাখ এবং অগ্রণী ব্যাংকের ৮ হাজার ২৩৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।…
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৯১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও…
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে…
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন ৮০ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট। ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’…
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের…
This website uses cookies.