গ্যাসের তীব্র সংকটে দেশের পুরো শিল্প খাত এখন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত শিল্প-কলকারখানা অচল হয়ে পড়েছে, যার ফলে লাখ লাখ শ্রমিক ও কর্মচারী কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শিল্পমালিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো বায়ারদের অর্ডার বাতিলের আশঙ্কায় ভুগছে। শিল্প-কলকারখানার বরাদ্দকৃত গ্যাসের সিংহভাগ পাওয়ার প্ল্যান্টে সরানোর কারণেই এই মহাসংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, তারা সংকট নিরসনে তিতাস গ্যাসের সঙ্গে এক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী ১০ তারিখের পর গ্যাস স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিলেও বর্তমানে গ্যাসের তীব্র অভাব রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সোমবার সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।
নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে ৪৫০টি ডায়িং কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে শতাধিক গার্মেন্ট কারখানায়। ফেব্রিক্সের অভাবে কারখানাগুলো কয়েকদিন পরপর বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে প্রায় দেড় হাজার কারখানার মধ্যে গ্যাসনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ থেকে ১৫ পিএসআই চাপের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৮ পিএসআই। ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে প্রায় চার হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে।
হবিগঞ্জের চিত্র আরও ভয়াবহ। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমতে শুরু করলেও বুধবার থেকে অধিকাংশ কারখানায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জেলার ১৭১টি ছোট-বড় ফ্যাক্টরির উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রায় দুই লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শিল্পোদ্যোক্তারা জানান, কোনো কোনো গার্মেন্টসকে একদিন উৎপাদন গেলে পরের দুদিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবার ডায়িং থেকে কাপড় পাওয়া গেলে কয়েকদিন উৎপাদন চালানো হচ্ছে। এতে রপ্তানির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠানো নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের একটি গার্মেন্টসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ (৫০০) শ্রমিক অলস বসে আছেন। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলেও কয়েকশ কারখানা একই কারণে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া নরসিংদীর একটি স্পিনিং মিলে গ্যাসনির্ভর জেনারেটর অচল হওয়ায় ১,২০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। নারায়ণগঞ্জের ৩৩টি সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসায় প্রায় সব স্টেশনই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রপ্তানি আয় হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সংকোচনের মতো ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে পুরো অর্থনীতিকে।
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা ও উন্নয়নকে সামনে রেখে ২০ কোটি টাকার সরঞ্জাম অর্ডারের মাধ্যমে…
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় আরও ২০-৩০ মিনিট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট…
সাতক্ষীরা জেলায় ২৪ ঘণ্টায় অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা,…
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক নবধর্মান্তরিত গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতন, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে…
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে হাসান মাহমুদদের দুর্দান্ত বোলিং ও লড়াকু মানসিকতার…
মাদারীপুরে নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও…
This website uses cookies.