সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে স্থবির হয়ে পড়েছে শিল্পকারখানাগুলো। সিএনজি পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা, আর বাসাবাড়ির চুলাও জ্বলছে না। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাস আইএসও (ISO) বা ক্রোয়োজেনিক লরি ট্যাংকার পদ্ধতিতে বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। পেট্রোবাংলার সাথে আয়োজিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএ’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পেট্রোনাসের প্রস্তাব অনুযায়ী, আইএসও পদ্ধতিতে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস এনে বাংলাদেশের শিল্পখাতে সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এর বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাসের চড়া মূল্য। বর্তমানে সরকার শিল্প গ্রাহকদের কাছে প্রতি ইউনিট গ্যাস ৩১ টাকায় বিক্রি করছে, কিন্তু পেট্রোনাসের প্রস্তাবিত দাম প্রতি ইউনিটে ১০০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে বর্তমানে পেট্রোবাংলাকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে প্রতি ইউনিট ৬৬ টাকায়। এই উচ্চমূল্যের চেয়েও পেট্রোনাসের প্রস্তাবিত দাম অনেক বেশি হওয়ায় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি।
বিটিএমএ’র প্রতিনিধি রাজীব হায়দার জানান, দেশের শিল্পখাতে গ্যাসের তীব্র চাহিদা থাকলেও এই উচ্চমূল্যে গ্যাস কেনা ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। পেট্রোনাসের মহাব্যবস্থাপক নরহামিজাম বিন নরদিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি বেসরকারি সুগার মিল পরিদর্শন করবে, যেখানে তারা এই বিশেষ পদ্ধতিতে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা যাচাই করবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সময় জ্বালানি খাতে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) সই হয়, যার আওতায় এই প্রস্তাবটি এসেছে। আইএসও পদ্ধতিতে ২০ ফিট ও ৪০ ফিটের ট্যাংকে করে জাহাজে এলএনজি আনা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লরির মাধ্যমে এই গ্যাস পাইপলাইন বা ফ্যাক্টরি এলাকায় পৌঁছানোর জন্য ব্যবহারকারীর স্থাপনায় বিনিয়োগ করে রিজার্ভ ট্যাংক ও রিগ্যাসিফিকেশন ব্যবস্থা বসাতে হবে।
এদিকে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, গ্যাসের অভাবে ৬ হাজারের বেশি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে, যা মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে প্রতি ইউনিটের খরচ পড়ছে ২৫ টাকার বেশি। গত বছর এলএনজি আমদানিতে সরকারের ব্যয় হয়েছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যা এবার ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া গ্যাস সংযোগের জন্য ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েও গত ৫ বছরে ৫৫০টি শিল্পকারখানা সংযোগ পায়নি।
সারা দেশে গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। সিএনজি পাম্পে গ্যাস না থাকার পরও পাম্পগুলোর সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকছে শত শত প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকশা। বাসার গ্যাসের চুলাগুলোও বন্ধ। শিল্পকারখানার চাকা ঘুরছে না। গ্যাসের অভাবে কয়েক হাজার শিল্প চরম সংকটের মুখে। দু-চার দিনের মধ্যে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল চালুর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কবে চালু হবে তাও জানে না কেউ। এই অনিশ্চিত অবস্থায় মালয়েশিয়ার তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাস ক্রোয়োজেনিক লরি ট্যাংকার বা আইএসও পদ্ধতিতে গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের শিল্পমালিকদের। তারা প্রতি ইউনিট গ্যাসের মূল্য ৩১ টাকার বদলে ১০০ টাকা করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পেট্রোনাস জানিয়েছে, আইএসও পদ্ধতিতে ৭-১০ দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস এনে বাংলাদেশের শিল্পে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ করা সম্ভব। মূল্য বেশি হলেও এতে বাংলাদেশের চলমান গ্যাসের সংকট কিছুটা হলেও কাটবে। পেট্রোনাসের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সরকারি সংস্থা পেট্রোবাংলায় গিয়ে আইএসও পদ্ধতিতে এলএনজি বিক্রির প্রস্তাব দেয়। সেখানে আয়োজিত বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএ’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারে সেনা নেতৃত্বে রদবদলের পর থেকে বেসামরিক জনগণের ওপর জান্তা বাহিনীর হামলা ও গণহত্যা মারাত্মকভাবে…
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা সাময়িক স্থগিতের দুই দিনের মাথায় সৌদি আরব, জর্ডান ও ইরাকে পৃথক ড্রোন…
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেট শাখায় ৪৪ গ্রাহকের জমাকৃত সোয়া দুই কোটি…
স্পেনের মাদ্রিদ ও আভিলার দাবানল থেকে তৈরি হওয়া ধোঁয়ার বিশাল মেঘ স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে, যা…
উত্তর ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত ‘খোর মোর’ গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে এরবিল শহরেও…
আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ঘরে বসেই মাত্র এক…
This website uses cookies.