Header Premium (728×90)

Categories: রাজধানী

৩০ পয়েন্ট থেকে এক পয়েন্টে ইছামতীর নৌকা বাইচ, স্লুইচগেটের দাবি

বাংলার হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইছামতী নদীতে। কলাকোপা নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটির উদ্যোগে এবং নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির পরিচালনায় এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় ৯টি ঘাসী নৌকা ও ৪টি কোষা নৌকা অংশ নেয়। বর্ণিল এই আয়োজন দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো মানুষের ঢল নামে ইছামতীর তীরে, যার ফলে সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। তিনি বলেন, নৌকা বাইচ গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান এবং আমাদের এই ঐতিহ্যকে যেকোনো মূল্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। একই সাথে তিনি আগের মতো ইছামতী নদীর সবকটি পয়েন্টে শৃঙ্খলভাবে নৌকা বাইচ আয়োজনের আহ্বান জানান।

তবে ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনটি এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, একসময় নবাবগঞ্জের ইছামতী নদীর প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু বর্তমানে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এই আয়োজন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইছামতী নদীর উৎপত্তিস্থল সোনাবাজু-কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় কোনো স্লুইচগেট না থাকায় বর্ষা মৌসুমেও নদীতে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে এখন আর আগের মতো সব জায়গায় বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হয় না।

নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় ইছামতীর ৩০টি পয়েন্টে এই প্রতিযোগিতা হলেও এখন পানির অভাবে সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। তিনি দাবি জানান, ইছামতী নদী ও এর চারপাশের জনপদে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এবং এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সোনাবাজু-কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় দ্রুত স্লুইচগেট স্থাপন করা প্রয়োজন। এই দাবিতে তাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম জানান, নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ইছামতীর দুই পাড়ে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এই লোকজ উৎসব উপভোগ করেন। নদীকে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার দাবি এখন স্থানীয় সবার।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

কিডনি বিক্রি করেও কাটল না অভাব, চুরির মামলায় গ্রেপ্তার যুবক

অভাবের তাড়নায় এক মাস আগে কিডনি বিক্রি করেও অভাব কাটেনি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছামছুল ইসলামের।…

6 minutes ago

চকরিয়ায় সড়ক দখলমুক্ত করতে দুই শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরে সড়ক দখল করে গড়ে তোলা দুই শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে উপজেলা…

26 minutes ago

শুটিংয়ের সেটে বড় বিপদের মুখে অভিনেতা ইমরান হাশমি

নতুন ছবি ‘গানমাস্টার জি৯’-এর শুটিং করার সময় একটি ক্রেন থেকে গাড়ি নিচে পড়ে বড় ধরনের…

36 minutes ago

বগুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের হাজারো ঘর এখন মাদকসেবীদের আস্তানা

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই হাজারের বেশি ঘর বাসিন্দাদের অভাবে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। নানা…

45 minutes ago

৫৮৩ শ্রমিকের হাতে ৫ কোটি টাকার অনুদানের চেক তুলে দিলেন মন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৫৮৩ জন শ্রমিক ও…

49 minutes ago

৭ মিনিটে ৩ গোল, রোমার বিপক্ষে রিয়ালের অবিশ্বাস্য জয়

রোমার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ শেষ সাত মিনিটে…

1 hour ago

This website uses cookies.