কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ধাওয়া দিয়ে সাতজনকে আটক করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত জানিপুর ইউনিয়নের চরবিহারীয়া গ্রামের হাওর নদী ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের একে একে আটক করা হয়। আটককৃতদের পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার লটাভাঙ্গা, পিরালীপাড়া ও বহলাডাঙ্গী এলাকার শাওন সরদার (২১), সাগর খান (১৯), আনিস মণ্ডল (২৮), সজিব মণ্ডল (১৯), সোহেল রানা (১৮), শামীম শেখ (১৯) ও ইমরান (২২)। এদের মধ্যে ইমরানের বাবার নাম জানা যায়নি। আটকদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর বয়সী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে চরবিহারীয়া গ্রামের একটি নির্জন স্থানে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে জড়ো হতে দেখে গ্রামবাসীর মনে সন্দেহ জাগে। বাসিন্দারা তাদের ঘিরে ফেললে তারা দৌড়ে একটি পানের বরজে গিয়ে আশ্রয় নেয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নাগরপাড়া, দশকাহুনিয়া, চরবিহারীয়া ও একতারপুর উত্তরপাড়ার কয়েক শ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে জড়ো হন। এ সময় ওই ব্যক্তিরা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার চেষ্টা করে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা পাশে থাকা হাওর নদীর কচুরিপানার মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে আত্মগোপন করে। গ্রামবাসীরাও নদীতে নেমে কচুরিপানার ভেতর থেকে একে একে তাদের ধরে ফেলেন।
অভিযানের সময় দলের এক সদস্য নদী সাঁতরে পালিয়ে গেছে বলে প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল। তবে সে মূলত কচুরিপানার ভেতরেই লুকিয়ে ছিল। শনিবার দুপুরে ফায়ারサービスの সদস্যরা নদীতে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান শেষ করে চলে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি নদী থেকে উঠে পালানোর চেষ্টা করে। তখন গ্রামবাসী তাকেও ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
খোকসা থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পৌঁছে গ্রামবাসীদের হাত থেকে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। এরপর তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তিরা একতারপুর বাজারে একটি সোনার দোকানসহ পাঁচটি দোকানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দ্বীপক সরকার কালা জানান, তিন দিন আগে একতার হাটে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। এরপর থেকেই গ্রামবাসী সতর্ক পাহারা দিচ্ছিলেন। রাতে ডাকাত দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চার গ্রামের মানুষ এক হয়ে তাদের প্রতিরোধ করেন।
এদিকে হাওর নদীতে ফেলে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। খোকসা ফায়ারサービスの স্টেশন লিডার রওশন আলী জানান, পুলিশের অনুরোধে তারা প্রায় দুই ঘণ্টা নদীতে তল্লাশি চালান। তবে পানির নিচে অস্ত্র খোঁজার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর ও জটিল হওয়ায় অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তদন্ত এগোচ্ছে। প্রথমে আটক হওয়া ছয়জনের আদালতে জবানবন্দি নেওয়া চলছে। তারা একতারপুর হাটে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
প্রয়াত সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী…
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শানলিউরফা প্রদেশে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এতে কোনো প্রাণহানি…
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিল করবে পিটিআই। এই কর্মসূচিকে…
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই বিশেষ বিসিএসের…
শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)…
আফগানিস্তানের কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায়…
This website uses cookies.