Header Premium (728×90)

Categories: সারাদেশ

নাটোরে ৫৮ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

নাটোর জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র প্রধান শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। জেলার মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৮ শতাংশেরই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে বছরের পর বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের কাঁধে ভর করে কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নাটোরে অনুমোদিত ৭৩৮টি প্রধান শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০৯ জন। বাকি ৪২৯টি বিদ্যালয়েই পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পদ শূন্য রয়েছে সিংড়ায়। সেখানে ২১০টি পদের মধ্যে ১৩০টিই ফাঁকা, কর্মরত আছেন ৮০ জন। এছাড়া নাটোর সদরে ১০২টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৫৮টি, নলডাঙ্গায় ৭২টির মধ্যে ৫১টি, গুরুদাসপুরে ৯০টির মধ্যে ৪৪টি, বাগাতিপাড়ায় ৫৬টির মধ্যে ৩৮টি, লালপুরে ১১২টির মধ্যে ৭২টি এবং বড়াইগ্রামে ৯৬টি পদের বিপরীতে ৫০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সহকারী শিক্ষকের ঘাটতিও। জেলায় ৪ হাজার ১২২টি অনুমোদিত সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ হাজার ৮১৯ জন, অর্থাৎ ৩০৩টি পদ খালি রয়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দাপ্তরিক নথিপত্র তৈরি, বিভিন্ন সভায় যোগ দেওয়া, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও তদারকির মতো বহুমুখী কাজ সামলাতে হয়। এতে করে তাদের নিজস্ব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের দায়িত্ব অন্য শিক্ষকদের ওপর চাপাতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুবিদ কুমার মৈত্র অলক বলেন, মেধাবী শিক্ষকরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান এবং এখানকার পাঠ্যবইও অত্যন্ত মানসম্মত। তবে প্রধান শিক্ষক না থাকাটা ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এলাকায় গিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার কর্মসূচিগুলো চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে এই শূন্য পদগুলো পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। খুব শিগগিরই প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

হামজার বিতর্কিত লাল কার্ডে ক্ষোভে ফুঁসছেন শেফিল্ড কোচ

পোর্টসমাউথের মাঠে শেফিল্ড ইউনাইটেডের ৩-২ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে হামজা চৌধুরীর লাল কার্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ কোচ…

3 minutes ago

সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত…

13 minutes ago

খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে

সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের আড্ডায় জনপ্রিয় খাবার শিঙাড়া। তবে খালি পেটে এটি খেলে হজমের সমস্যা,…

26 minutes ago

পেশোয়ারে স্কুল ভবন ধসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ নিহত ২১

পাকিস্তানের পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের ভবন ধসে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী ও…

30 minutes ago

প্রাথমিক গণিত শিক্ষায় এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে ডাচ গবেষকদের গবেষণা

নেদারল্যান্ডসের রাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পাটিগণিতে দক্ষতা বাড়াতে এআইযুক্ত শিখন-প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা…

36 minutes ago

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সুশাসন ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং মন্ত্রী সাচিং প্রু পার্বত্য…

42 minutes ago

This website uses cookies.