Header Premium (728×90)

ব্রেকিং নিউজ

প্রদিপ নিভে যাওয়া পরিবারটি দেখলো আলোর মুখ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার মঝিকাড়া গ্রামের রিস্কা চালক অরুণ মিঞা যার থাকার কোন জায়গা নেই। স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী ছেলে নিয়ে পরের বাড়িতে একটি একচালা ছাউনি ভাড়া নিয়ে কোন রকমে জীবন চালিয়ে যাচ্ছিল। বড় ছেলের নাম মোছেন মিয়া(১৪)ছোট ছেলে ছেলের নাম আবির (১২)। জন্মের পর টাইফয়েড জ্বরে তার ছোট ছেলে আবিরের বাম পা বিকলাঙ্গ হয়ে যায়, আর বড় মোছেন মিয়া বাক প্রতিবন্ধী ও হাত পা বিকলাঙ্গ। আবিরের পায়ে একটি রড দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলে তার জীবন। রিস্কা চালিয়ে অল্প আয়ের সংসারে তিন বেলা ভাত জোগাড় করতে পারতো না অরুন, ছেলেদের চিকিৎসা তো দুরের কথা। এরই মাঝে ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস জীবন যুদ্ধে চলা অবস্থায় হঠাৎ একদিন আবিরের দাদা,দাদি,বাবাসহ পরপর তিন দিনে তিনজনের মৃত্যু দেখে ওই প্রতিবন্ধী দুই শিশু। বেঁচে থাকার আলো নিভে যায় তাদের। আবির পা খুড়িঁয়ে ভিক্ষা করে মা ভাইয়ের খাবার যোগার করত। সম্প্রতি এই পরিবারের হৃদয়বিদারক এই কাহিনী সমাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তা দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামূল ছিদ্দিক এই অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারটি পাশে দাড়াঁলেন। তাদের হাতে তুলে দেন পাঁচ মাসের খাদ্য সামাগ্রী ও নগদ অর্থ। আর আবিরকে অপারেশন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে জিননদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তি করে দেন এবং মাথা গুঁজার ঠাই হিসাবে প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ন প্রকল্পে জিনোদপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের জমিসহ একটি আধাপাকা ঘর উপহার দিলেন।
বুধবার(১০/৫)স্কুলে আবিরের সাথে কথা হয়,আবির বলে,লেখাপড়া করে বড় হয়ে আমি স্যারের মত হবো। আমিও মানুষের সেবা করবো, স্যার যেভাবে মানুষকে উপকার করে আমিও তেমন ভাবে মানুষের উপকার করবো। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
জিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন,তার দায়িত্ব আমাদের ইউএনও মহোদয় নিয়েছেন। আবির লেখাপড়ায় খুব মনোযোগী, আমরাও তার লেখাপড়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখছি।
এই মানবিক বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন,সমাজে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হচ্ছে। যে পরিবারটিকে সহায়তা প্রদান করা হলো সেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিসহ তিন দিনে তিনজন মারা গেছেন। আমরা চেয়েছি পারিবারটির জন্য স্থায়ীভাবে কিছু একটা করে দিতে।এখন তারা সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছে। আবিরের মা শিউলী বেগমকে সেলাই প্রশিক্ষণ ও গাভী পালনের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

editor

Recent Posts

মক্কা চুক্তি বনাম ইসরাইল-আমিরাত জোট: মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা…

17 minutes ago

বিচার না হওয়া পর্যন্ত সমঝোতায় যাবে না শিবির-ছাত্রশক্তি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে রাজি নয় ছাত্রশিবির…

17 minutes ago

মিথ্যা ভান না করে সত্যকে বেছে নেওয়া জরুরি: প্রভা

সম্পর্ক ছিন্ন করা মানে হাল ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং নিজেকে বাঁচানোর একটি সাহসী সিদ্ধান্ত বলে…

31 minutes ago

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা: শেখ হাসিনার সামনে কী পথ খোলা?

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তার পাসপোর্ট…

47 minutes ago

পেশাদার ও রাজনীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র ছাড়া সুশাসন অসম্ভব: গোলটেবিল সংলাপ

বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি বজায় রাখতে আমলাতন্ত্রকে সম্পূর্ণ পেশাদার, দক্ষ ও রাজনীতিমুক্ত…

50 minutes ago

কিংবদন্তি অভিনেতা জসিমের জন্মদিনে ফিরে দেখা তার বর্ণাঢ্য জীবন

ঢালিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশন তারকা জসিমের জন্মদিন আজ। অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও…

1 hour ago

This website uses cookies.