Header Premium (728×90)

বগুড়ার প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: স্থান পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রত্যাশিত শিক্ষা প্রকল্প হিসেবে আলোচিত বগুড়ার প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থান নির্ধারণ, জমি অধিগ্রহণ এবং সম্ভাব্য স্থান পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ ও বিতর্ক।

সূত্র অনুযায়ী, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এর সরকারের সময় বগুড়ায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য প্রাথমিকভাবে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার নয় মাইল জামালপুর এলাকাকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত জমির সম্ভাবনার কারণে এটি একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক কিছু কার্যক্রম শুরু করার কথাও জানায়।
কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী মহল বিশ্ববিদ্যালয়টির পূর্বনির্ধারিত স্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে একটি প্রতিমন্ত্রীর নাম নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টির সম্ভাব্য নতুন স্থান হিসেবে ঐতিহাসিক শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান এলাকায় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি এবং এটি জাতীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের ঐতিহাসিক এলাকায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি বড় উদ্বেগ হচ্ছে, যদি সরকারি খাস জমি বা তথাকথিত ‘দেবোত্তর সম্পত্তি’র ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়, তাহলে পূর্বে জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ হওয়া অর্থের ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সহজ যাতায়াত, অবকাঠামোগত সুবিধা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে। একই সঙ্গে যেকোনো স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বগুড়ার সচেতন মহল মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়টি যেখানে স্থাপন করা হোক না কেন, সেটি যেন জনগণের স্বার্থ, শিক্ষার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বগুড়াবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির চূড়ান্ত অবস্থান কোথায় হবে এবং সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

mottalib

Recent Posts

সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা জারি

সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে…

17 minutes ago

পলাশবাড়ীতে প্লাবন হত্যা মামলার আসামি শ্রমিক লীগ নেতা লিটন গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত শিবিরকর্মী রেজবুল হক সরকার প্লাবন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও শ্রমিক লীগ…

47 minutes ago

ড. ইউনূসকে হয়রানি ও অপপ্রচারের ঘটনায় ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধারাবাহিকভাবে হয়রানি ও অনলাইনে অপপ্রচারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন…

59 minutes ago

বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদ

বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে…

1 hour ago

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নীতিমালা ২০২৭ প্রকাশ

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির…

2 hours ago

বিএনপির সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই

বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার…

2 hours ago

This website uses cookies.