প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ১৫। দেশের বিভিন্ন জেলায় এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মে-জুনের তীব্র খরার পর জুলাই-আগস্টে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে অনেক এলাকায় ফলন প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন চাষিরা। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশ, যেখানে বছরে ১৫ লাখ টন পাট উৎপাদিত হয়। সাড়ে সাত থেকে আট লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮০ লাখ বেল পাটের উৎপাদন হয়, যার ৫১ শতাংশ পাটকলে ব্যবহৃত হয় এবং ৪৪ শতাংশ কাঁচা অবস্থায় রপ্তানি করা হয়। দেশের শ্রমশক্তির প্রায় ১২ শতাংশ সরাসরি পাট চাষ ও প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত।
ফরিদপুর, যশোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও জামালপুরে এবার পাটের উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। তবে রপ্তানি সীমিত থাকলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মতে, পরিবেশ সুরক্ষায় পাটের ব্যাগ ব্যবহারের সরকারি উদ্যোগ এই চাহিদা ধরে রাখতে সহায়তা করছে। বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পাটপণ্যের উৎপাদন বাড়ানো গেলে পাটের দাম বাড়বে এবং কৃষকরা চাষে উৎসাহিত হবেন। তিনি চীনে পাট রপ্তানি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি পৌনে ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাপস প্রামাণিক জানান, গত অর্থবছরে প্রতি মণ কাঁচা পাট ৫,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকায় কিনতে হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা। এদিকে বহুমুখী পাটপণ্যের রপ্তানি ১১ শতাংশ কমে সাত কোটি ৪৪ লাখ ডলারে নেমেছে, যার পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রয়াদেশ হ্রাস পাওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েশনের এমডি রাশেদুল করিমের মতে, বহুমুখী পণ্য উৎপাদন এবং গবেষণায় বিনিয়োগ ছাড়া রপ্তানি বাড়ানো কঠিন।
মাঠ পর্যায়ে চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। নড়াইলে এবার ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টরে পাট আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। উৎপাদন প্রত্যাশা তিন লাখ ১৬ হাজার ৮৯৮ বেল। সরকারি প্রণোদনায় ৩,২০০ প্রান্তিক কৃষক বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছেন। প্রতি মণ পাটের বাজারদর ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাষিদের মতে, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ন্যায্য দাম মিলছে না। ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দায় সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। রাজবাড়ীর কৃষক কালাম গায়ান জানান, দৈনিক মজুরি ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা হওয়ায় প্রতি বিঘায় খরচ ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা, অথচ বিক্রি করে আয় হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা।
রাজশাহীর ৯ উপজেলায় এবার ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৮২ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাংলাদেশ পাটচাষি সমিতির সভাপতি মোক্তার মোল্লা জানান, উৎপাদন খরচ না ওঠায় চাষিরা লোকসানে আছেন। তিনি মণপ্রতি পাটের দাম ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানান। বিজেআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. নার্গিস আক্তার জানান, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ৫৭টি জাত, ২২৩টি কৃষি প্রযুক্তি ও ৬৯টি শিল্প-কারিগরি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। রপ্তানিকারকরা ২০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে, ভালো ফলনের পাশাপাশি উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নিশ্চিত করাই এখন সোনালি আঁশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এদিকে ‘সোনালী আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর’ স্লোগানে পাটের রাজধানীখ্যাত ফরিদপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পাট চাষ হলেও পর্যাপ্ত পানি সংকট, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট…
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ…
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর সেভেন…
বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে…
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাত সাবেক সংসদ সদস্য এবং…
This website uses cookies.