প্রকৃতি বাংলাদেশকে দুহাত ভরে দিয়েছে; সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, হাওর, চা-বাগান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আর ঐতিহাসিক স্থাপনার মতো পর্যটনের প্রধান উপাদানগুলো এখানে বিদ্যমান। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন থেকে শুরু করে কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত কিংবা সিলেটের চা-বাগান—পর্যটন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই রয়েছে বাংলাদেশে। তবুও আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশ এখনো বড় কোনো গন্তব্য হয়ে উঠতে পারেনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও পর্যটন আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন ৬ লাখ ২১ হাজার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৫০ হাজারে। অথচ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে বিদেশি পর্যটন থেকে আয় ছিল ৪৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে ৪৪ কোটি ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ পর্যটক বাড়লেও আয় কমার এই প্রবণতা বাংলাদেশের পর্যটন খাতের মূল সংকটের জায়গাটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে। সমস্যাটি পর্যটন সম্পদের অভাব নয়, বরং সেই সম্পদকে আন্তর্জাতিক পর্যটন পণ্যে রূপান্তর করতে না পারা।
বিশ্ব পর্যটন খাত যখন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ প্রচারণা, যোগাযোগ, অবকাঠামো, ভিসা, বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক সমস্যায় আটকে আছে। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ব্যয় ২ দশমিক ০২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং পর্যটন খাত বিশ্ব অর্থনীতিতে ১১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের দীর্ঘ পর্যটন সম্পদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো ধারাবাহিক ও শক্তিশালী প্রচারণার অভাব স্পষ্ট।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ১ হাজার ২০০টির বেশি পর্যটনকেন্দ্র থাকলেও সেগুলোর বড় অংশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার পায় না। এছাড়া ভিসা আবেদনের জটিলতা, দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের অনিশ্চয়তা বিদেশি পর্যটকদের বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে উৎসাহিত করে। যদিও সরকার ২০২৬ সালে নতুন ভিসা নীতি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং অনলাইনে আগমন-বহির্গমন কার্ড পূরণ চালু করেছে, তবুও পুরো যাত্রাপথকে সহজ ও দ্রুত করার দাবি রয়েছে।
যাতায়াত ব্যবস্থাও পর্যটনের বড় বাধা। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সীমিত হওয়ায় পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার আলোচনা দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটকবান্ধব গণপরিবহন, বিশ্রামকেন্দ্র ও জরুরি চিকিৎসার মতো অবকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বব্যাংক পরিবহন, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও ডিজিটাল যোগাযোগকে পর্যটন উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করে, যা বাংলাদেশে এখনো সমন্বিত পর্যটন করিডরের মাধ্যমে যুক্ত করা যায়নি।
অভিজ্ঞতা তৈরির অভাবও পর্যটন খাতের একটি বড় ঘাটতি। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখালে বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট হয় না; তাদের জন্য প্রকৃতি, ইতিহাস, খাবার, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ মিলিয়ে পর্যটন পণ্য তৈরি করতে হয়। দক্ষ ও বহুভাষিক গাইডের অভাব এবং পর্যটকের নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। অপরিকল্পিত পর্যটনের ফলে সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন ও পাহাড়ের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন জানান, বিদ্যমান পর্যটন ব্যবস্থা মূলত বেসরকারি কেন্দ্রিক এবং বোর্ডের ক্ষমতা ও জনবল সীমিত। তিনি জানান, পর্যটন খাতকে ঢেলে সাজাতে মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পরিবেশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি সমন্বিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানালেও, বিনিয়োগের পরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদী নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গবাদিপশু চুরি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ‘বাঁশকল’ চেকপোস্ট স্থাপন…
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র একটি…
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে পরিবেশ দূষণের দায়ে ৪টি স্টোন ক্রাশার প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে…
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি জাতীয় ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই করা হয়েছে বলে…
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানায় দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় এক আসামি এবং পৃথক দুটি সিআর…
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার দুই দিন পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত…
This website uses cookies.