
মহাকাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক (ইন্টারস্টেলার) অঞ্চলে প্রথমবারের মতো একটি প্রকৃত চিনির অণুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সোমবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই যুগান্তকারী তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন স্পেনের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট ড. ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা। গবেষকদের ভাষ্যমতে, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম, যেখানে নক্ষত্রগুলোর মাঝখানে ধুলিকণা ও গ্যাস ছড়িয়ে রয়েছে, সেখানেই এই চিনির অণুটি শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা করছিলেন যে, এই অঞ্চলটি জটিল জৈব অণু তৈরির এক ধরনের প্রাকৃতিক রাসায়নিক কারখানা হিসেবে কাজ করে।
গবেষণার প্রধান ড. জিমেনেজ-সেরা জানান, চিনির অণুর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। তবে কোনো পর্যবেক্ষণগত ভুল বা অন্য কোনো অণু কি না, তা নিশ্চিত হতে গবেষক দলটি বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্লেষণেই একই ফল পাওয়া গেছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট ব্রেট ম্যাকগুয়ার, যিনি এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তিনি এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, গবেষকদের তথ্য ও বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে সত্যিই চিনির অণুর অস্তিত্ব রয়েছে।
পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশের জন্য চিনি অপরিহার্য, কারণ আরএনএ ও ডিএনএ গঠনে চিনির বিভিন্ন ধরন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে পরীক্ষাগারে পৃথিবীর প্রাথমিক পরিবেশ অনুকরণ করেও এসব চিনির অণু তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এর আগে গ্রহাণু ও উল্কাপিণ্ডে গ্লুকোজ ও রাইবোজসহ বিভিন্ন ধরনের চিনির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও, সেগুলোর মূল উৎস এতদিন অজানাই ছিল। নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নক্ষত্র ও গ্রহ গঠনের আগে আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিবেশেই এসব চিনির অণু তৈরি হতে পারে। পরবর্তীতে গ্রহাণু ও ধূমকেতুর মাধ্যমে কোটি কোটি টন চিনি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় বলে গবেষকদের ধারণা। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, পৃথিবীর প্রাথমিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রায় ৫ লাখ টন থেকে ৫ কোটি টন পর্যন্ত এই ধরনের চিনি মহাজাগতিক বস্তুগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীতে এসে থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির ব্যাখ্যাই নয়, মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করেছে। যদি আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম স্বাভাবিকভাবেই জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করতে পারে, তবে গ্যালাক্সির অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রাণের বিকাশ ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বর্তমানে গবেষকদের লক্ষ্য হলো আরএনএ ও ডিএনএ তৈরিতে ব্যবহৃত আরও জটিল চিনি, যেমন রাইবোজ ও ডিঅক্সিরাইবোজের অনুসন্ধান করা। তাদের আশা, ভবিষ্যতের এই গবেষণা মহাবিশ্বে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২