
আর্জেন্টিনার মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম সেদিন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। এই স্টেডিয়াম এর আগে এত জনতার ভিড় দেখেছে কিনা তা গবেষণার বিষয়। প্রতিটি মানুষের পরনে ছিল আকাশী-সাদা জার্সি, হাতে লিও-প্লাকার্ড, আর কপালে বা গায়ে জড়ানো ছিল আর্জেন্টিনার পতাকা। ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে জাতীয় দল থেকে সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় বিদায় জানানোর উপলক্ষ ছিল সেটি। স্টেডিয়ামের আকাশে বাতাসে যেন মেসির সুবাস ছড়িয়ে পড়েছিল, আর দর্শকরা সম্মোহিতের মতো পুরো সময়টি উপভোগ করছিলেন। মেসির পায়ে বল যেতেই গ্যালারিতে ‘লিও লিও’ চিৎকারে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল। দর্শকরা যেন সমুদ্রের সুনামির মতো মুহূর্তে মুহূর্তে উল্লাসে ফেটে পড়ছিলেন।
গ্যালারিতে বসে থাকা মেসির স্ত্রী রোকুজ্জু এবং পাশে থাকা মেসির মা ছিলেন মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে। মেসির বিদায়ী ভাষণে তার প্রয়াত পিতার স্মৃতিচারণ উপস্থিত সবাইকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। তবে এই পুরো আয়োজনে সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যটি ছিল কোচ লিওনেল স্কালোনির কান্না। বেনিনের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ শুরুর আগে যখন আর্জেন্টিনার জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়, তখন দলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে তিনি একা একা অঝোরে কাঁদছিলেন। ক্যামেরা বারবার তার কান্নার সেই দৃশ্য ফোকাস করছিল। তার সেই কান্না শুধু চোখ ভেজা নয়, বরং পুরো গণ্ড বেয়ে গড়িয়ে পড়েছিল।
স্কালোনির এই কান্না ছিল মেসির প্রতি তার গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। মেসি তার কাছে কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং এক বড় নির্ভরতা। স্কালোনি জানতেন, মেসিকে দলে রাখা মানেই এক অজেয় শক্তির অধিকারী হওয়া। দলের কঠিন সময়েও শান্ত থাকা স্কালোনিকে অনেকেই ঠাণ্ডা মাথার ‘খুনি’ বলে ডাকেন, কারণ তিনি জানেন তার তুরুপের তাস মেসির হাতেই রয়েছে। সেই মেসির বিদায়বেলায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে জাতীয় দল এক বিশাল সম্পদ হারাচ্ছে।
ম্যাচশেষে বেনিনের খেলোয়াড়দের মেসির সঙ্গে সেলফি তোলার প্রাণান্ত চেষ্টা এবং গ্যালারিতে আলোর ঝলকানিতে মেসি অধ্যায়ের সমাপ্তি ছিল এক স্মরণীয় মুহূর্ত। বেনিনের খেলোয়াড়রা মাঠে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করলেও, খেলার বাইরে মেসির প্রতি তাদের এই শ্রদ্ধা ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২