টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই কোচ ছাঁটাই, সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানো এবং তাঁদের পরিবর্তে নতুন সাতজনকে দলে যুক্ত করা—এমন নজিরবিহীন কাণ্ডে তোলপাড় পাকিস্তান ক্রিকেট। দলে আসা নতুন সাতজনের মধ্যে আবার পাঁচজনেরই এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এমন হঠকারী ও যুক্তিহীন সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদের ওপর। অনেক আশা নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া সরফরাজের কোচিং অধ্যায় শেষ হলো মাত্র ৬ টেস্টেই। অথচ চলতি বছরের মার্চে অবসর নেওয়া সরফরাজকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৈরি করছিল পিসিবি। গত নভেম্বরে তাঁকে পাকিস্তান শাহিনস ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যুব দল, ‘এ’ দল ও জাতীয় দলের মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁকে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে পরামর্শক হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও পাঠানো হয়, যেখানে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। এরপর গত মে মাসে বাংলাদেশ সফরে তাঁর কাঁধে টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হলেও মাত্র কয়েকটি ম্যাচ পরই তাঁকে বরখাস্ত করা হলো।
খেলোয়াড় দলবদল ও বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও পিসিবির সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া সালমান আগাকে পরের টেস্টেই বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অথচ গত মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা এই ক্রিকেটার মাত্র ৫টি ইনিংসে রান না পাওয়ায় এমন চরম সিদ্ধান্তের শিকার হলেন। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার আলী উসমান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পোর্ট অব স্পেনে ৬ উইকেট এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলিতে ৫ উইকেট নেওয়া এই স্পিনার লর্ডসের পেস-সহায়ক উইকেটে মাত্র ১ উইকেট পাওয়ায় দল থেকে বাদ পড়ে দেশে ফেরার টিকিট পেয়েছেন।
পিসিবির এমন আচরণকে খেলোয়াড়দের প্রতি অসম্মানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, বাদ পড়া খেলোয়াড়েরা দেশের হয়ে অবদান রেখেছেন এবং তাঁদের প্রথম ফ্লাইটে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া অত্যন্ত অপমানজনক। শোয়েব মালিকের মতে, জবাবদিহি শুরু হওয়া উচিত যারা সিস্টেমটা নষ্ট করেছে তাদের দিয়ে, কোনো সফর শেষ হওয়ার পর; মাঝপথে নয়। সাবেক কোচ মিকি আর্থারও পিসিবির এই সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, নিয়মিত খেলোয়াড়, কোচ ও নির্বাচক বদলানোর কারণে পাকিস্তান ক্রিকেটে কোনো স্থিতিশীলতা নেই এবং এটাই তাদের সংকটের মূল কারণ।
ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ব্যাটার কেভিন পিটারসেনও পাকিস্তানের এই গণহারে দলবদল ও খেলোয়াড়দের দেশে ফেরত পাঠানোর খবর বিশ্বাস করতে পারছেন না। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি নতুন খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, ইংল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচের জন্য টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না। মাত্র ৬টি টেস্টের পর কোচকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অভিজ্ঞ নির্বাচক কমিটির সবচেয়ে হতবাক করা সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন আফ্রিদি।
পাকিস্তান ক্রিকেটে কখন কী হয় বলা মুশকিল, তার আরেকটি উদাহরণ পাকিস্তানকে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ী সরফরাজ।উদাহরণ আছে আরও অনেক।
বিশেষ করে সেই খেলোয়াড়দের দিয়ে নয়, যারা বেঞ্চে বসে ছিল কিংবা মাত্র ২-৩টি টেস্ট খেলেছে।
রাজশাহীর ডিঙ্গাডোবায় মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম হত্যা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলী ও তার ভাইকে ফাঁসানোর…
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশন উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।…
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গভর্নর গ্যাভিন…
ভোলার মনপুরা উপজেলায় ১০০ ইয়াবা উদ্ধারসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট…
বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের জন্মদিনে আলিয়া ভাট শেয়ার করলেন তাদের একান্ত ভালোবাসার মুহূর্তের ছবি, যা…
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন…
This website uses cookies.